১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পরমাণু ইস্যুতে অচলাবস্থা: স্থায়ী নয়, অন্তর্বর্তী চুক্তির পথে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে গভীর মতবিরোধের কারণে স্থায়ী শান্তিচুক্তির লক্ষ্য থেকে সরে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এখন উভয় পক্ষ একটি অস্থায়ী বা অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির দিকে ঝুঁকছে।

তেহরানের উচ্চপর্যায়ের দুই কর্মকর্তার বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, সম্ভাব্য এই অন্তর্বর্তী চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির জন্য আলোচনায় আরও ৬০ দিনের সময় পাওয়া যাবে। সেই আলোচনায় জাতিসংঘের পরমাণু তদারকি সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটোমিক এনার্জি এজেন্সি (আইএইএ)-এর প্রতিনিধিরাও যুক্ত হবেন।

ইরানের পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বিরোধ চলছে। এই উত্তেজনার জের ধরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

যুদ্ধের অংশ হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের ঘাটতি ও জ্বালানি সংকট বাড়তে থাকে।

প্রায় ৪০ দিন সংঘাতের পর গত ৮ এপ্রিল ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এর পর ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদের মধ্যে দীর্ঘ বৈঠক হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান আসেনি।

বৈঠকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, আলোচনার প্রধান অন্তরায় ছিল ইরানের পরমাণু কর্মসূচি, ইউরেনিয়াম মজুত এবং সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম নিয়ে দুই পক্ষের গভীর মতপার্থক্য।

তবে বৈঠকে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। ইরান প্রস্তাব দেয়-যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা শিথিল করলে এবং জব্দকৃত অর্থের কিছু অংশ ছাড় করলে প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বাড়ানো যেতে পারে।

কিন্তু পরমাণু ইস্যুতে অচলাবস্থার কারণে এ বিষয়ে অগ্রগতি হয়নি। বর্তমানে যেখানে আগে প্রতিদিন ১২০ থেকে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করত, সেখানে যুদ্ধের পর তা নেমে এসেছে মাত্র ১০ থেকে ১২টিতে।

সূত্রগুলো জানায়, যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান তার ইউরেনিয়াম মজুত ত্যাগ করুক এবং অন্তত ২০ বছরের জন্য সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি বন্ধ রাখুক। অন্যদিকে ইরান ইউরেনিয়াম মজুত ছাড়তে রাজি নয়; তবে ৩ থেকে ৫ বছরের জন্য কর্মসূচি স্থগিত রাখতে সম্মত।

বর্তমানে ইরানের কাছে প্রায় ৪০০ কেজি ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা ৯০ শতাংশে উন্নীত হলে তা দিয়ে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি সম্ভব।

মার্কিন প্রতিনিধি দলের এক সদস্য রয়টার্সকে বলেন, “চুক্তির পথে সবচেয়ে বড় বাধা এখনও ইরানের পরমাণু কর্মসূচি।”