১৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রোহিঙ্গাদের জন্য আরও ১ কোটি ৪০ লাখ ইউরো দিচ্ছে ইইউ

কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর সহায়তায় নতুন অর্থায়নের ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। জরুরি সহায়তা ও সুরক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)-এর সঙ্গে অংশীদারিত্ব নবায়নের পাশাপাশি অতিরিক্ত ১ কোটি ৪০ লাখ ইউরো অনুদান দিচ্ছে সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার ইউএনএইচসিআর এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

সংস্থাটি জানায়, নতুন এই অর্থায়নের মাধ্যমে কক্সবাজারের প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং প্রায় ৭০ হাজার স্থানীয় বাংলাদেশি উপকৃত হবেন। অর্থায়নের আওতায় শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানি হিসেবে এলপিজি ব্যবহারের সুযোগ সম্প্রসারণ করা হবে।

বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধি দলের প্রধান মাইকেল মিলার বলেন, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় ইইউ দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের পাশে রয়েছে। তিনি বলেন, শুধু জরুরি সহায়তা নয়, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আয়ের সুযোগ তৈরির দিকেও এখন গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, এ সহায়তা রোহিঙ্গাদের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ভবিষ্যতে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের প্রস্তুতিতেও সহায়ক হবে।

ইউএনএইচসিআরের বাংলাদেশ প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেন বলেন, দীর্ঘ নয় বছর ধরে বাস্তুচ্যুত জীবন কাটানো রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর জন্য ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই সহযোগিতা তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত এবং মৌলিক চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ঘনবসতিপূর্ণ ক্যাম্প, সীমিত সম্পদ ও দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুত জীবনের কারণে রোহিঙ্গারা নানা ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুরা জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা, মানব পাচার ও শোষণের ঝুঁকিতে বেশি থাকে। এলপিজি ব্যবহারের ফলে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহের জন্য বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন কমে, যা তাদের নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণেও সহায়তা করে।

বিশ্ব শরণার্থী দিবস (২০ জুন) উপলক্ষে এই সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ইউএনএইচসিআর জানায়, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় ২০২৫-২০২৬ সালের যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনা (জেআরপি) বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকার ও বিভিন্ন উন্নয়ন অংশীদারের সঙ্গে কাজ করছে সংস্থাটি। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে চলতি বছরে প্রায় ৭১ কোটি মার্কিন ডলার প্রয়োজন হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।