১৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাজার কোটি টাকার প্রণোদনায় ঘুরে দাঁড়ানোর আশা বন্ধ শিল্পে কারখানার, লক্ষ্য ২৫ লাখ কর্মসংস্থানের

দেশের স্থবির অর্থনীতিকে পুনরায় সচল করতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বন্ধ শিল্পকারখানা চালু, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তা, কৃষি ও রপ্তানি খাতে গতি ফিরিয়ে আনতে ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশাল পুনঃঅর্থায়ন ও সহায়তা তহবিল ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

শনিবার রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর মোস্তাকুর রহমান এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়া, শিল্পখাতে সংকট, উচ্চ সুদহার এবং ব্যাংকিং খাতে চাপের কারণে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় অর্থনীতিকে নতুন করে গতিশীল করতেই বিশেষ এ প্যাকেজ নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, ঘোষিত প্যাকেজের মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় বিতরণ করা হবে। এছাড়া বাকি ১৯ হাজার কোটি টাকা বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে দেওয়া হবে।

সবচেয়ে বড় বরাদ্দ রাখা হয়েছে বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত পুনরুজ্জীবনের জন্য, যেখানে ২০ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হবে। পাশাপাশি সিএমএসএমই খাতে ৫ হাজার কোটি টাকা, কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে ১০ হাজার কোটি টাকা এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণে ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। উত্তরবঙ্গকে কৃষি হাব হিসেবে গড়ে তুলতেও বিশেষ তহবিল ঘোষণা করা হয়েছে।

এছাড়া চামড়া শিল্প, হিমায়িত মাছ রপ্তানি, স্টার্টআপ, গ্রিন বিনিয়োগ এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্যও আলাদা তহবিল গঠন করা হয়েছে। বিশেষ করে সৃজনশীল অর্থনীতির জন্য ৫০০ কোটি টাকা অনুদান হিসেবে দেওয়া হবে, যা ঋণ নয় বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

গভর্নরের ভাষ্য অনুযায়ী, এ উদ্যোগ পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে ২৫ লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে। এর মাধ্যমে বন্ধ শিল্পকারখানা চালু হওয়ার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন, রপ্তানি ও গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও নতুন গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে বাংলাদেশ ব্যাংক ৪ শতাংশ সুদে অর্থ দেবে এবং ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ স্প্রেড রাখতে পারবে। ফলে বড় উদ্যোক্তারা ৭ শতাংশ সুদে ঋণ পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে ক্ষুদ্র ঋণের ক্ষেত্রে পরিচালন ব্যয় বেশি হওয়ায় সুদের হার কিছুটা বেশি হতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগকে অনেকেই বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।