১৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরান-মার্কিন সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় লাফ

হরমুজ প্রণালিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এর সরাসরি প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে গেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে (গ্রিনিচ মান সময়) আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ দশমিক ৩৮ ডলার বা ২ দশমিক ৫২ শতাংশ বেড়ে ৯৬ দশমিক ৬৭ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। যদিও সেশনের শুরুতে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছিল। অন্যদিকে, আগামী আগস্ট মাসের ডেলিভারির জন্য আমেরিকান বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সেস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ দশমিক ২৪ ডলার বা ২ দশমিক ৫৩ শতাংশ বেড়ে ৯০ দশমিক ৯২ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

এর মাত্র একদিন আগে গত বুধবার, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য চুক্তি এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার সম্ভাবনায় উভয় বেঞ্চমার্কের দাম ৫ শতাংশের বেশি কমে এক মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছিল। কিন্তু তেহরানের সঙ্গে কোনো সমঝোতা চুক্তির কাছাকাছি থাকার খবরটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি বদলে যায়।

যুক্তরাষ্ট্র গত তিন দিনের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির আশপাশে হুমকি তৈরি করা ৪টি ইরানি ‘ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন’ ভূপাতিত করেছে তারা। একই সঙ্গে ইরানের কৌশলগত বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসের একটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে, যেখান থেকে আরেকটি ড্রোন উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি চলছিল।

এই মার্কিন হামলার জবাবে কুয়েতে অবস্থিত একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজে প্রকাশিত বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে কুয়েতের ওই মার্কিন ঘাঁটিতে প্রতিশোধমূলক হামলাটি চালানো হয়। একই সঙ্গে তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, এটি শত্রুর জন্য একটি চূড়ান্ত সতর্কবার্তা; ভবিষ্যতে এমন আগ্রাসন চালানো হলে ইরানের পরবর্তী জবাব আরও বেশি বিধ্বংসী ও সুনির্দিষ্ট হবে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, দুই দেশের এই সামরিক সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা বাজারকে ঊর্ধ্বমুখী করে তুলেছে। পিভিএম অয়েল অ্যাসোসিয়েশনের বিশ্লেষক জন ইভান্স মন্তব্য করেছেন, যতক্ষণ না কোনো স্থায়ী চুক্তির আশ্বাস পাওয়া যাচ্ছে, ততক্ষণ তেলের দাম বাড়তেই থাকবে। এই সংকটের কারণে হরমুজ প্রণালিতে বর্তমানে এক বিলিয়ন ব্যারেলেরও বেশি তেল আটকে আছে, যার প্রভাবে বিশ্বব্যাপী তেলের মজুত কমে আসার চূড়ান্ত সংকট এখন স্পষ্ট হতে শুরু করেছে।