শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি জেএমআই হসপিটাল রিকুইজিট ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেডের প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও (IPO) তহবিল ব্যবহারের ওপর নিরীক্ষা (অডিট) প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘পিনাকী অ্যান্ড কোম্পানি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস’ ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময়ের আইপিও অর্থ ব্যবহারের ওপর এই প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।
প্রতিবেদনে নিরীক্ষক স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, কোম্পানিটি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) বিধিমালা এবং আইপিও অনুমোদনের সব ধরনের শর্ত কঠোরভাবে অনুসরণ করে তহবিল ব্যবহার করেছে। নিরীক্ষকদের মতে, আইপিও অর্থ ব্যবহারের বিবরণী যথাযথভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে এবং এতে কোম্পানির আর্থিক অবস্থার প্রকৃত ও স্বচ্ছ চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে।
তহবিল পুনর্বিন্যাস ও শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন অডিট প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ ২০২৫ সালের ২৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত তাদের ১৬০তম বোর্ড সভায় অব্যবহৃত আইপিও ব্যয়ের একটি অংশ পুনর্বিন্যাসের সুপারিশ করেছিল। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ‘কমন ফ্যাসিলিটিজ (ইউটিলিটিজ অ্যান্ড আদার্স)’ খাতে অব্যবহৃত ১৬ লাখ ১৩ হাজার ১৩২ টাকা পুনরায় বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ২২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত কোম্পানির ১৭তম বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা এই প্রস্তাবের চূড়ান্ত অনুমোদন দেন। একই সঙ্গে আইনানুযায়ী বিষয়টি বিএসইসি, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (PSI) হিসেবেও প্রকাশ করা হয়।
খাতভিত্তিক আইপিও তহবিল ব্যবহারের চিত্র নিরীক্ষা প্রতিবেদনে ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) খাতভিত্তিক ব্যয়ের বিবরণী তুলে ধরা হয়েছে:
কমন ফ্যাসিলিটিজ (ইউটিলিটিজ অ্যান্ড আদার্স): আলোচ্য তিন মাসে এই খাতে নতুন করে ৫ লাখ ৫৯ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এর ফলে এই খাতে মোট ব্যবহৃত অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ৫৪ লাখ ৭৪ হাজার ৭৫০ টাকা, যা নির্ধারিত পুনর্বিন্যাসকৃত বরাদ্দের ৯৭ দশমিক ৯৯ শতাংশ।
আইপিও খরচ: একই সময়ে আইপিও ব্যয় খাতে নতুন করে ৯০ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়েছে। ফলে এই নির্দিষ্ট খাতে মোট ব্যবহৃত অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ১৬ লাখ ৮৬ হাজার ৮৬৮ টাকা, যা এই খাতের জন্য নির্ধারিত বরাদ্দের শতভাগ (১০০%) সফল ব্যবহার নির্দেশ করে।
নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠানটি আরও নিশ্চিত করেছে যে, জেএমআই হসপিটাল তাদের আইপিও প্রসপেক্টাসে উল্লেখিত মূল উদ্দেশ্যগুলো বজায় রেখেই অর্থ ব্যয় করেছে। বিএসইসির সম্মতিপত্রের শর্তগুলো যথাযথভাবে পরিপালন করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ভাউচার ও ব্যাংক স্টেটমেন্ট পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাইয়ের মাধ্যমেই এই আইপিও অর্থ ব্যবহারের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।



