বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জলবায়ু-সহনশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে এবং বৈশ্বিক অন্তর্ভুক্তিমূলক পুঁজি আকর্ষণের লক্ষ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘অরেঞ্জ ইকোনমি সামিট ২০২৬: ঢাকা’। সামিটে বাংলাদেশের জন্য ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা হয়েছে।
ডিএসই, ইমপ্যাক্ট ইনভেস্টমেন্ট এক্সচেঞ্জ (আইআইএক্স) এবং পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআই) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ সামিটে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) ডিএসইর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অনুষ্ঠানে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, করপোরেট খাতের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী এবং দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।
সামিটে অরেঞ্জ ক্লাইমেট ফান্ডের আওতায় বাংলাদেশে ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের সম্ভাবনা, অরেঞ্জ ক্যাপিটাল ইকোসিস্টেমের বিকাশ এবং দীর্ঘমেয়াদি, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে পুঁজিবাজারের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়।
স্বাগত বক্তব্যে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার বলেন, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও জলবায়ু সহনশীলতা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, ডিএসই টেকসই অর্থায়ন, করপোরেট গভর্ন্যান্স এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বাস্তবায়নে বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীর সঙ্গে কাজ করছে।
উদ্বোধনী বক্তব্যে আইআইএক্সের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অধ্যাপক দুররীন শাহনাজ বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক বাজার গড়ে তোলা জরুরি।
তিনি জানান, আইআইএক্সের এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ‘অরেঞ্জ ক্লাইমেট ফান্ড’ থেকে বাংলাদেশের জন্য ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, অরেঞ্জ ক্যাপিটাল ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার মাধ্যমে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম অগ্রণী অরেঞ্জ অর্থনীতিতে পরিণত হবে।
‘বাংলাদেশে অরেঞ্জ ক্যাপিটাল ইকোসিস্টেম নির্মাণ’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিআরআইয়ের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. আশিকুর রহমান। তিনি বলেন, এলডিসি উত্তরণ ও এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য অর্জনে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা এবং উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, গ্রিন বন্ড, সোশ্যাল বন্ড এবং দেশের প্রথম অরেঞ্জ বন্ডের মাধ্যমে একটি ভিত্তি তৈরি হয়েছে। এখন প্রয়োজন নীতিগত সহায়তা, বাজারভিত্তিক উদ্ভাবন এবং আন্তর্জাতিক মূলধন আকর্ষণের মাধ্যমে শক্তিশালী অরেঞ্জ ক্যাপিটাল বাজার গড়ে তোলা।
পরে অনুষ্ঠিত এক আলোচনায় বাংলাদেশে অরেঞ্জ ক্যাপিটাল ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা, অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থায়ন সম্প্রসারণ এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে উদ্ভাবনী আর্থিক উপকরণের ভূমিকা নিয়ে মতবিনিময় করেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।



