১৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলিতে নতুন নীতিমালা: সর্বোচ্চ তিনবার আবেদন

বেসরকারি স্কুল ও কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা আনতে সংশোধিত নতুন নীতিমালা জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, একজন শিক্ষক তার পুরো কর্মজীবনে সর্বোচ্চ তিনবার বদলির আবেদন করতে পারবেন এবং সব বদলি কার্যক্রম সম্পন্ন হবে অনলাইন সফটওয়্যারের মাধ্যমে।

বুধবার (৬ মে) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ নির্দেশনা জারি করা হয়।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা চাকরিতে যোগদানের পর অন্তত দুই বছর পূর্ণ হলে বদলির আবেদন করতে পারবেন। একবার বদলি হওয়ার পর নতুন কর্মস্থলে আবারও অন্তত দুই বছর দায়িত্ব পালনের পরই পরবর্তী বদলির আবেদন করা যাবে।

বদলির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার নির্ধারণে নতুন কিছু মানদণ্ড যুক্ত করা হয়েছে। একই শূন্য পদের বিপরীতে একাধিক আবেদন থাকলে নারী শিক্ষক, স্বামী-স্ত্রীর কর্মস্থল নিকটবর্তী জেলা, জ্যেষ্ঠতা এবং কর্মস্থল থেকে দূরত্ব বিবেচনা করা হবে। শিক্ষকরা নিজ জেলায় বদলির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন। তবে নিজ জেলায় পদ খালি না থাকলে সংশ্লিষ্ট বিভাগের অন্য জেলাতেও আবেদন করা যাবে। স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থল জেলা বা নিজ জেলাতেও বদলির সুযোগ রাখা হয়েছে।

নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বছরে সর্বোচ্চ দুইজন শিক্ষক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বদলি হতে পারবেন। একই বিষয়ের একাধিক শিক্ষককে একই বছরে বদলির সুযোগ দেওয়া হবে না।

প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ ও নিষ্পত্তি করা হবে। শিক্ষকরা সর্বোচ্চ তিনটি পছন্দের প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করে আবেদন করতে পারবেন।

বদলির আদেশ জারির ১০ দিনের মধ্যে শিক্ষককে অবমুক্ত করতে হবে এবং পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। এই সময়কালও কর্মকাল হিসেবে গণ্য হবে। বদলির কারণে জ্যেষ্ঠতা বা আর্থিক সুবিধায় কোনো পরিবর্তন হবে না।

নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত, সাময়িক বরখাস্ত বা স্টপ পেমেন্টের আওতায় থাকা শিক্ষকরা বদলির জন্য অযোগ্য বিবেচিত হবেন।