জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতাকে আইনি সুরক্ষা দিতে জারি করা ‘দায়মুক্তি’ অধ্যাদেশের প্রতি সম্মতি জানিয়েছে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই করে আগামী ২ এপ্রিলের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান কমিটির সদস্যরা।
বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতাকে দায়মুক্তি দেওয়ার অধ্যাদেশের সঙ্গে কমিটি একমত হয়েছে। তিনি বলেন, “এই বীর যোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের নৈতিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব।”
অন্যদিকে আইনমন্ত্রী জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে জারি হওয়া ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, “প্রতিটি অধ্যাদেশ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হচ্ছে। আগামী ২ এপ্রিলের মধ্যে এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। সংবিধান ও জন-আকাঙ্ক্ষার মধ্যে সমন্বয় রেখেই আমরা এগোতে চাই, তবে সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুণ্ণ থাকবে।”
তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, বিশেষ কমিটির সুপারিশ সরাসরি আইনে রূপ নেবে না। কমিটি তাদের মতামত সংসদে উপস্থাপন করবে এবং সংসদই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
সংসদীয় বিধি অনুযায়ী, নতুন সংসদ গঠনের ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে পূর্ববর্তী অধ্যাদেশগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। ইতোমধ্যে ১৫ দিন পার হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করতে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে কমিটি।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রী ছাড়াও সংসদীয় কমিটির অন্যান্য সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



