রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে আজ রোববার আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করছে পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান জানান, ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। কিছু আনুষ্ঠানিক কাজ শেষ করে আজই দুই আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হবে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, নিহত রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাসা থেকে বের হলে প্রতিবেশী স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজের কক্ষে নিয়ে যান।
পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে যাওয়ার কথা থাকলেও শিশুটিকে না পেয়ে তার মা খোঁজ শুরু করেন। একপর্যায়ে আসামিদের কক্ষের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তিনি। ডাকাডাকির পরও সাড়া না মেলায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা শয়নকক্ষে মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং একটি বালতির ভেতরে বিচ্ছিন্ন মাথা দেখতে পান।
ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্বপ্না আক্তারকে হেফাজতে নেয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
গ্রেপ্তার সোহেল রানা আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানান, ঘটনার আগে তিনি ইয়াবা সেবন করেছিলেন। তার জবানবন্দি অনুযায়ী, শিশুটিকে কক্ষে নেওয়ার পর বাথরুমে ধর্ষণ করা হয় এবং পরে ধরা পড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাকে হত্যা করা হয়।
জবানবন্দিতে আরও বলা হয়, মরদেহ গোপনের উদ্দেশ্যে শিশুটির মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং দুই হাত আংশিক কেটে ফেলা হয়। পরে মরদেহ লুকিয়ে রেখে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান তিনি। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই কক্ষে উপস্থিত ছিলেন বলেও তিনি আদালতে উল্লেখ করেন।
আসামি আরও জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে তাদের কোনো পূর্বশত্রুতা ছিল না।



