১৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রামিসা হত্যা ও ধর্ষণ মামলার বিচার শুরু; কাঠগড়ায় আসামির চাঞ্চল্যকর দাবি

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার নৃশংস ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। এর মধ্য দিয়ে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হলো।

সোমবার (১ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন শুনানি শেষে এ আদেশ দেন এবং আগামীকাল (২ জুন) সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর দিন ধার্য করেন।

শুনানিকালে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা দাবি করেন, “আমি ধর্ষণ করি নাই, শুধু লাশ কেটেছি; ধর্ষণ করেছে ডলার নামে একজন।”

এ বক্তব্যকে ঘিরে আদালতপাড়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

এদিন সকাল পৌনে আটটার দিকে প্রিজন ভ্যানে আসামিদের আদালতে আনা হয়। সোহেল রানাকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় এবং তার স্ত্রী স্বপ্নাকে নারী হাজতখানায় রাখা হয়। পরে বেলা ১১টার দিকে তাদের এজলাসে তোলা হয়।

শুনানির সময় সোহেল রানা বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হেলমেট পরিহিত অবস্থায় কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। অপরদিকে স্বপ্না আক্তার অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে জানা গেছে, পরে পুলিশ তাকে পানি খাইয়ে সামাল দেয়।

রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় খরচে নিয়োজিত আসামিপক্ষের আইনজীবী মূসা কালিমুল্লাহ তাদের নির্দোষ দাবি করেন।

পরে আদালত অভিযোগ পড়ে শোনান এবং আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। একইসঙ্গে আগামীকাল (২ জুন) সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকালে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা ঘর থেকে বের হলে তাকে কৌশলে ভেতরে নেয় স্বপ্না। পরে শিশুটির নিখোঁজের পর পরিবারের সদস্যরা তার মরদেহ উদ্ধার করেন।

পরে ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্বপ্নাকে আটক করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারের পর ২০ মে আসামি সোহেল রানা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। সেখানে তিনি ধর্ষণ ও হত্যার বিবরণ দেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে “ডলার” নামে কোনো ব্যক্তির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। তবে আসামির দাবি আদালতে সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে যাচাই হবে। তিনি দ্রুত মামলার নিষ্পত্তির আশা প্রকাশ করেন এবং সর্বোচ্চ শাস্তির প্রত্যাশা জানান।

আগামীকাল থেকে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।