বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোটের রায় অস্বীকারের মধ্য দিয়েই দেশে নতুন এক ফ্যাসিবাদের সূচনা হয়েছে, যা অতীতের চেয়েও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।
শুক্রবার রাজধানীর মগবাজারে আল ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতের ‘জেলা আমির সম্মেলন’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ বডি গঠনের উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হয়েছে, ফলে দলীয় প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। দলীয় ভিত্তিতে বিচারক নিয়োগের কারণে বিচার ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও দাবি করেন, পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) গঠনের উদ্যোগও আটকে দেওয়া হয়েছে। এসব কারণে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সংকট তৈরি হলেও তা মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের অভাব রয়েছে। সরকার একদিকে সংকট অস্বীকার করছে, অন্যদিকে দেশে দীর্ঘ সময় ধরে লোডশেডিং চলছে-যা পরস্পরবিরোধী বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে ফেলা হচ্ছে এবং প্রশাসনে দলীয়করণ বাড়ছে। সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তাদের উপেক্ষা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
দুর্নীতি দমন কমিশন ও মানবাধিকার কমিশনের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠান কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ক্ষেত্রেও দলীয়করণের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এসব কার্যক্রমে অনিয়মের কারণে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছে। পাশাপাশি চাঁদাবাজি বৃদ্ধি ও জ্বালানি খরচ বাড়ার কারণে দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ভুল থেকে সরে এসে গণভোটের ফলাফল মেনে নেওয়া উচিত। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক উদ্যোগে সহযোগিতা করা হবে, তবে জনগণের ওপর কোনো ধরনের ফ্যাসিবাদ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না।



