শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেড তাদের রাইট শেয়ারের মাধ্যমে সংগৃহীত তহবিলের উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যবহার করলেও এখনো একটি বড় অংশ অব্যবহৃত রয়ে গেছে। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময়ের তহবিল ব্যবহারের ওপর পরিচালিত সর্বশেষ নিরীক্ষা প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে। কোম্পানিটির এই হিসাব নিরীক্ষা করেছে এমএবিএস অ্যান্ড জে পার্টনার্স চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস। নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্দেশনা এবং রাইট শেয়ার অফার ডকুমেন্ট মেনেই এই বিবরণী তৈরি করা হয়েছে এবং এতে ব্যয়ের প্রকৃত চিত্র উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বার্জার পেইন্টস রাইট শেয়ার থেকে পাওয়া অর্থের মধ্যে মোট ১৮০ কোটি ৮০ লাখ ৯৪ হাজার ৪২৯ টাকা খরচ করেছে, যা সামগ্রিক তহবিলের প্রায় ৫৯ দশমিক ৭১ শতাংশ। ব্যয়ের খাতগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, কোম্পানিটি সবচেয়ে বেশি এগিয়ে রয়েছে যন্ত্রপাতি, সরঞ্জাম ও অটোমেশন খাতে। এই খাতে বরাদ্দ করা অর্থের সিংহভাগ অর্থাৎ ৯৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ বা ১৪৫ কোটি ৬১ লাখ ২০ হাজার৭৭০ টাকা ইতিমধ্যেই ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া রাইট শেয়ার ইস্যু সংক্রান্ত খরচ বাবদ বরাদ্দকৃত অর্থের ৯০ দশমিক ৫০ শতাংশ বা ৪ কোটি ৫৫ লাখ ৯ হাজার ৫ টাকা ব্যয় করেছে কোম্পানিটি।
তবে ভূমি ও অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি কিছুটা ধীর। এই খাতে জমি উন্নয়ন, সড়ক নির্মাণ, কারখানা ভবন, ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট এবং গুদাম তৈরিতে ২৮ কোটি ৫৮ লাখ ২৭ হাজার ২২১ টাকা খরচ হলেও তা মোট বরাদ্দের মাত্র ২২ দশমিক ৪২ শতাংশ। পাশাপাশি পরামর্শক সেবা ও অন্যান্য প্রকল্প খাতে বরাদ্দ অর্থের মাত্র ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ বা ২ কোটি ৬ লাখ ৩৭ হাজার ৪৩৩ টাকা ব্যয় করা সম্ভব হয়েছে। রাইট শেয়ারের এই বিপুল অর্থ ব্যবস্থাপনার জন্য কোম্পানিটি ব্র্যাক ব্যাংক ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে পৃথক হিসাব পরিচালনা করছে।
রাইট শেয়ার অফার ডকুমেন্ট অনুযায়ী এই তহবিল ব্যবহারের মূল সময়সীমা ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বড় অঙ্কের অর্থ অব্যবহৃত থেকে যাওয়ায় বার্জার পেইন্টস সময় বাড়ানোর জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির কাছে আবেদন জানায়। কোম্পানির সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে বিএসইসির করপোরেট রিপোর্টিং বিভাগ আগামী ২০২৭ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত তহবিল ব্যবহারের সময়সীমা বাড়িয়ে দিয়েছে। নিরীক্ষকরা নিশ্চিত করেছেন যে, সংগৃহীত অর্থ প্রসপেক্টাসে উল্লেখিত উদ্দেশ্য অনুযায়ী খরচ করা হচ্ছে এবং ব্যয়ের সব নথিপত্র ও ব্যাংক স্টেটমেন্ট যথাযথ পাওয়া গেছে।



