জনগণের অর্থ আর বিদেশে পাচার হতে দেওয়া হবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণের টাকা জনগণের কল্যাণে এবং দেশের উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।
বুধবার (১৭ জুন) মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ যদি সচেতন থাকে এবং সবাই মিলে নজরদারি করে, তাহলে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী জনগণের অর্থ বিদেশে পাচার করতে পারবে না। সেই অর্থ দেশের উন্নয়ন ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজে লাগানো হবে।
তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার সময় হবিগঞ্জের জনসভা থেকে চা বাগানের নারী শ্রমিকদের ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, আজ তার বাস্তবায়ন শুরু হলো। হয়তো এখনই সবাইকে কার্ড দেওয়া সম্ভব হয়নি, তবে আগামী এক বছরের মধ্যে চা বাগানের প্রায় সব শ্রমিক পরিবারের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও ঘোষণা দেন, আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের ৪০ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড এবং ৪০ লাখ কৃষকের হাতে কৃষক কার্ড তুলে দেওয়া হবে।
সম্প্রতি ঘোষিত জাতীয় বাজেট নিয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, যে বাজেটে ৬০টি পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, সেই বাজেটকে গণবিরোধী বলা অযৌক্তিক। যারা এমন মন্তব্য করছে, তারা জনগণের প্রকৃত বন্ধু হতে পারে না।
তিনি বলেন, জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা সংসদের ভেতরে কিংবা বাইরে যেখান থেকেই আসুক, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হলে উন্নয়নমূলক কর্মসূচিগুলোর বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হবে।
গণতন্ত্র ও জাতীয় ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না। জনগণের শক্তির সামনে গণতন্ত্রবিরোধী সব অপচেষ্টা ব্যর্থ হবে।
মৌলভীবাজারের উন্নয়নে বিএনপির অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জেলার বড় বড় সড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের অধিকাংশ কাজ বিএনপি সরকারের আমলে, বিশেষ করে মরহুম এম সাইফুর রহমানের নেতৃত্বে বাস্তবায়িত হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শে বিশ্বাস করি। বাংলাদেশই আমাদের প্রথম এবং শেষ ঠিকানা। দেশের মানুষের কল্যাণেই আমরা কাজ করে যেতে চাই।



