১৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: তিতুমীর

সরকার টাকা ছাপাচ্ছে-এমন প্রচারকে ‘গালগল্প’ আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, এ ধরনের বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। তিনি জানান, বর্তমান সরকার বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানা চালু করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে।

শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ‘আসন্ন বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক প্রাক-বাজেট ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. তিতুমীর বলেন, বিগত সময়ে পরিবার, ব্যবসা ও রাষ্ট্র-সব ক্ষেত্রেই আয়ের সংকট তৈরি হয়েছিল। এর প্রভাব এতটাই গভীর ছিল যে বহু নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যায়। ফলে সমাজে অর্থনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণিও বড় চাপের মুখে পড়ে।

তিনি অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী সরকার কেন্দ্রীয় ব্যাংকে নিয়মিত হস্তক্ষেপ করত এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে ছেড়ে দিয়েছিল। বর্তমান সরকার কোনো ধরনের সিন্ডিকেট নির্ভর অর্থনীতি চায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণের মাধ্যমে জনগণকে সম্পৃক্ত করাই সরকারের লক্ষ্য।

অবকাঠামো উন্নয়নের নামে অতীতে বিপুল ঋণ নিয়ে লুটপাট করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি তথ্য গোপন ও বিকৃতির সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সব তথ্য জনগণের জন্য উন্মুক্ত রাখার প্রতিশ্রুতিও দেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি, বিশ্ববাজারে পণ্যমূল্য বৃদ্ধি এবং জ্বালানি খরচ বাড়ার কারণে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বেড়েছে।

তিনি বলেন, উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই এবারের বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে।

এ সময় তিনি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো উদ্যোগ মূল্যস্ফীতির ধাক্কা সামলাতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রাক-বাজেট ছায়া সংসদ প্রতিযোগিতায় মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে হারিয়ে জাতীয় বস্ত্র প্রকৌশল ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (নিটার) বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মাঝে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়।