১৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জলবায়ু সংকট মানবজাতির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ, পরিবেশ সচেতনতায় প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান অভিঘাত আজ বিশ্ববাসীর জন্য এক কঠিন বাস্তবতা এবং বর্তমানে এই সংকট সমগ্র মানবজাতির জন্য অন্যতম বড় বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি উল্লেখ করেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, তীব্র তাপদাহ, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, আকস্মিক বন্যা, খরা এবং জীববৈচিত্র্যের অবক্ষয় বিশ্বজুড়ে পরিবেশ, অর্থনীতি ও মানুষের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলছে।

আগামী ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার রাতে দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বাণীতে তিনি পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন দূরদর্শী পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে খুবই সামান্য অবদান রাখলেও ভৌগোলিক অবস্থান, উচ্চ জনঘনত্ব এবং জলবায়ু-সংবেদনশীল অর্থনীতির কারণে বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে পরিচিত। জলবায়ু ঝুঁকি সূচক ২০২৬ অনুযায়ী বাংলাদেশ উচ্চ জলবায়ু ঝুঁকির সম্মুখীন। লবণাক্ততা বৃদ্ধি, কৃষি উৎপাদন হ্রাস, জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুতি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্রমবর্ধমান তীব্রতা দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন অগ্রযাত্রার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশের পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (এনএপি) ও জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি) বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি সমন্বিত ও দূরদর্শী নীতি কাঠামো অনুসরণ করছে সরকার। এর পাশাপাশি উপকূলীয় অঞ্চলের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, সামাজিক বনায়ন, দুর্যোগ প্রস্তুতি, জলবায়ুজনিত কারণে বাস্তুচ্যুত হওয়া জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন এবং প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধানকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান সরকার পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এই লক্ষ্যের অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের একটি বিশাল কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে, যা পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের কাজ শুরু হয়েছে।

তারেক রহমান আরও বলেন, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশের কৃষিখাতকে টেকসই, আধুনিক ও জলবায়ু-সহিষ্ণু ভিত্তিতে পুনর্গঠনের জন্য সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় যেকোনো ধরনের নতুন গবেষণা, উদ্ভাবন, প্রশিক্ষণ ও সম্প্রসারণ কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

একই সাথে দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ, সবুজ শিল্পায়ন, পরিবেশবান্ধব নগরায়ণ, উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, গণপরিবহনের উন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার জোরদার করা হচ্ছে। কার্বন ক্রেডিট ও বৈশ্বিক কার্বন মার্কেটের বিশাল সম্ভাবনাকে দেশের অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত স্বার্থে কাজে লাগাতেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি বাণীতে জানান।

সবশেষে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, সবার সমন্বিত উদ্যোগ, পরিবেশ সচেতনতা এবং দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে একটি সবুজ, নিরাপদ, বাসযোগ্য ও জলবায়ু-সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে দেশে গৃহীত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।