১৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হিজরি নববর্ষে বদলাবে কাবার গিলাফ, শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সম্পন্ন

হিজরি নববর্ষ উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এবারও পরিবর্তন করা হবে পবিত্র কাবা শরিফের গিলাফ (কিসওয়া)। এ উপলক্ষে সৌদি কর্তৃপক্ষ সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। ঐতিহ্য, নান্দনিকতা ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে তৈরি নতুন গিলাফ শিগগিরই কাবা শরিফে স্থাপন করা হবে।

নতুন গিলাফ তৈরির কাজ শুরু হয় কয়েক মাস আগে। বিশেষজ্ঞ কারিগররা খাঁটি প্রাকৃতিক রেশম ব্যবহার করে গিলাফ প্রস্তুত করেন। এরপর সোনা ও রুপার প্রলেপ দেওয়া সুতো দিয়ে পবিত্র কোরআনের আয়াত, ইসলামি নকশা ও অলঙ্করণ অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়।

গিলাফ পরিবর্তনের সময় ঘনিয়ে আসায় পবিত্র মসজিদুল হারামে জোরদার করা হয়েছে প্রস্তুতি। নতুন গিলাফের বিভিন্ন অংশ নির্ধারিত স্থানে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা শেষ মুহূর্তের পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করছেন, গিলাফের প্রতিটি আয়াত, নকশা ও অলঙ্করণ নিখুঁতভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

গিলাফ পরিবর্তনের মূল কাজ শুরু হবে বর্তমান গিলাফের সোনালি অলঙ্করণ ও কারুকাজ করা অংশগুলো অপসারণের মাধ্যমে। এরপর ধাপে ধাপে পুরোনো গিলাফ নামিয়ে কাবা শরিফের চার পাশে নতুন গিলাফ স্থাপন করা হবে। পুরো কাজটি নির্দিষ্ট নিয়ম ও কারিগরি পদ্ধতি অনুসরণ করে সম্পন্ন করা হয়, যাতে প্রতিটি অংশ সঠিকভাবে বসানো যায়।

একই সঙ্গে কাবা শরিফকে ঘিরে থাকা অলঙ্কৃত বেল্ট এবং দরজার ওপরের বিশেষ পর্দাও নতুন করে স্থাপন করা হবে। সোনা ও রুপার কারুকাজে সজ্জিত এসব অংশ নতুন গিলাফের সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি করবে।

গিলাফ তৈরির এ বিশাল কর্মযজ্ঞে সৌদি বিশেষজ্ঞদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ঐতিহ্যবাহী ইসলামি শিল্পকলাকে অক্ষুণ্ণ রেখে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে গিলাফ নির্মাণে সৌদি আরব বিশ্বমানের সুনাম অর্জন করেছে।

কাবার গিলাফ পরিবর্তনের এই আয়োজন শুধু ধর্মীয় দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, এটি মুসলিম ঐতিহ্য ও সভ্যতারও এক অনন্য প্রতীক। বিশ্ব মুসলিমের হৃদয়ে কাবা শরিফের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ ঘটায় এই আয়োজন।

পহেলা মহররমের আগেই নতুন গিলাফে সজ্জিত হবে কাবা শরিফ। নতুন হিজরি বছরের সূচনায় এই দৃশ্য বিশ্ব মুসলিমের জন্য বরাবরের মতোই এক আবেগঘন ও তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত হয়ে থাকবে।