লিওনেল মেসির বয়স প্রায় ৩৯ বছর। তবুও মাঠে তার উপস্থিতি যেন বয়সকে কোনো বাধা মানে না। ক্যানসাস সিটির মাঠে আলজেরিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে তিনি হ্যাটট্রিক করে আবারও বিশ্বমঞ্চে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন।
এই ম্যাচে ৮০ মিনিটে তিনটি গোল করে তিনি শুধু আর্জেন্টিনাকে জয়ই এনে দেননি, বরং বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় মিরোস্লাভ ক্লোসার পাশে নিজের নামও বসিয়ে দেন। একই সঙ্গে ইতিহাস গড়ে তিনি হয়ে যান প্রথম ফুটবলার, যিনি ছয়টি বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছেন।
ম্যাচ শেষে স্বাভাবিকভাবেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল—২০৩০ বিশ্বকাপে কি আবারও মেসিকে দেখা যাবে? আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসের মিক্সড জোনে এ প্রশ্নের জবাবে তিনি প্রথমে হেসে ফেলেন। এরপর খুব স্পষ্টভাবেই সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে বলেন, “না, না, এটা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।”
আলজেরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার আগেই মেসি একাধিক রেকর্ড নিজের করে নিয়েছিলেন। ম্যাচ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি ইতিহাসে নাম লেখান, প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ছয়টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে। এই তালিকায় পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোও যুক্ত হতে পারেন বলে আলোচনা চলছে।
ম্যাচে আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদানের বিপক্ষে দারুণ নৈপুণ্য দেখান মেসি। কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানের ছেলেকে একাধিকবার পরাস্ত করে তিনি আবারও প্রমাণ করেন, বয়স বাড়লেও তার পারফরম্যান্সে কোনো ঘাটতি নেই।
তবে ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলীয় লক্ষ্যকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। ভবিষ্যতের কল্পনায় না গিয়ে তিনি এখন পুরো মনোযোগ দিচ্ছেন দলের লড়াইয়ে। তার লক্ষ্য আরও একটি বিশ্বকাপ শিরোপার জন্য এগিয়ে যাওয়া এবং নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিতব্য ফাইনালে জায়গা করে নেওয়া।


