১৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বকাপের শুরুতেই বিতর্ক, টরন্টোর অস্থায়ী গ্যালারি বাতাসে দুলছে!

ফিফা বিশ্বকাপের পর্দা উঠতে না উঠতেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। আর এই বিতর্কের কেন্দ্রে বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক কানাডার টরেন্টো স্টেডিয়াম। ফিফা শর্ত মেনে তড়িঘড়ি করে এক হাজারের বেশি টাকা ব্যয়ে স্টেডিয়ামের দর্শক আসন বাড়ানো হলেও লোহার পাইপের জোড়াতালি অস্থায়ী গ্যালারি রীতিমতো বাতাসে দুলতে শুরু করেছে।

এমনকি তীব্র বাতাসে বসার সিট কাঁপছে- এমন ভিডিও এবং খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ফুটবলপ্রেমীরা একে ইতোমধ্যেই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বাজে স্টেডিয়াম বলে সমালোনা করা শুরু করেছেন।

বসনিয়ার বিপক্ষে কানাডার উদ্বোধনী ম্যাচের মঞ্চ বিএমও ফিল্ডকে ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফুটবলপ্রেমীরা বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বাজে স্টেডিয়াম বলে আখ্যা দিচ্ছেন। ফিফার দর্শক ধারণক্ষমতার শর্ত পূরণ করতে গিয়ে তড়িঘড়ি করে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার একশ ব্যয়ে যে অস্থায়ী গ্যালারি নির্মাণ করা হয়েছে, তার নির্ভরযোগ্যতা এবং নিরাপত্তা নিয়েই উঠেছে প্রশ্ন।

স্টেডিয়ামটির মূল ধারণক্ষমতা ছিল মাত্র ৩০ হাজার, যা বিশ্বকাপের ১৬টি ভেন্যুর মধ্যে সবচেয়ে ছোট। কিন্তু ফিফার ন্যূনতম শর্ত পূরণ করতে গিয়ে প্রায় ১৭ হাজার অস্থায়ী সিট বসিয়ে ধারণক্ষমতা ৪৩,০৩৬ এ নিয়ে যাওয়া হয়। তবে উত্তর ও দক্ষিণ গ্যালারির এই বিশাল অংশটি তৈরি করা হয়েছে সাধারণ লোহার পাইপের অস্থায়ী কাঠামো দিয়ে।

গত মে মাসে মেজর লিগ সকারের একটি ম্যাচে এই অস্থায়ী গ্যালারি উদ্বোধনের সময়ই আমেরিকান গণমাধ্যম দি অ্যাথলেটিকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, স্টেডিয়ামে তীব্র বাতাস শুরু হলে দর্শকদের বসার আসনগুলো রীতিমতো কাঁপতে শুরু করে! বিশ্বকাপের মতো এত বড় মঞ্চে গ্যালারির এমন নড়বড়ে অবস্থা ফুটবল ভক্তদের মনে তীব্র ভীতি ও শঙ্কা তৈরি করেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভক্তরা এই কাঠামোর তীব্র সমালোচনা করে একে বিশ্বকাপের অনুপযুক্ত বলে আখ্যা দিয়েছেন। গ্যালারির ওপর কোনো ছাদ না থাকায় রোদ-বৃষ্টি বা ঝড়ো বাতাসে দর্শকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

গ্যালারি নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হওয়ার পর স্টেডিয়ামের অপারেশন্স ডিরেক্টর নিক ইভস দর্শকদের আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, এই অস্থায়ী গ্যালারি নির্মাণে বিশ্বের অন্যতম সেরা একটি কোম্পানির সহায়তা নেওয়া হয়েছে এবং এটি শতভাগ নিরাপদ। এই মাঠেই চলতি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ৫টি এবং শেষ-৩২ রাউন্ডের ১টি ম্যাচসহ মোট ৬টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।