১৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাঙাভাব দিয়ে শুরু, দিনশেষে নিস্তেজ শেয়ারবাজার

টানা কয়েকদিনের উত্থানের ধারায় সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবার (২৭ এপ্রিল) শেয়ারবাজারে দিনের শুরুটা ছিল চাঙাভাবপূর্ণ। সূচকে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেই গতি আর ধরে রাখতে পারেনি বাজার। শেষ পর্যন্ত দিনশেষে শেয়ারবাজারে নিস্তেজতা ও দর সংশোধনের চাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচক কমার পাশাপাশি লেনদেনেও ধীরগতি লক্ষ্য করা যায় এবং অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর নিম্নমুখী হয়।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক কয়েক দিনের ধারাবাহিক উত্থানের পর এটি ছিল স্বাভাবিক দর সংশোধনের ধাপ। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা তৈরি করেছে। ফলে দিনের শুরুতে কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা থাকলেও শেষ দিকে মুনাফা তুলে নেওয়ার চাপ ও অনিশ্চয়তার কারণে বাজার গতি হারায়।

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, এদিন ডিএসইএক্স সূচক ১৫.৬১ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৩০০.৫৭ পয়েন্টে দাঁড়ায়। ডিএসই শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ৮.৫৩ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৫৬.৬৬ পয়েন্টে অবস্থান করে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৫৬.৬৬ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৭.৭৪ পয়েন্টে নেমে আসে।

এদিন ডিএসইতে মোট ৩৯২টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ১০২টির দর বৃদ্ধি পায়, ২২৩টির দর কমে এবং ৬৭টির দর অপরিবর্তিত থাকে। অর্থাৎ বাজারে দরপতনের চাপই ছিল বেশি।

লেনদেনের পরিমাণও আগের দিনের তুলনায় কমেছে। ডিএসইতে মোট প্রায় ৯৫৬ কোটি ১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয় যা আগের দিনের প্রায় ৯৮২ কোটি ৪২ লাখ টাকার তুলনায় কম। ফলে একদিনের ব্যবধানে লেনদেন কমে যায় প্রায় ২৬ কোটি ৪১ লাখ টাকা।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে। এদিন সেখানে মোট ২২ কোটি ৫৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয় যা আগের দিনের ২৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকার তুলনায় কম।

সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২১৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮০টির দর বেড়েছে, ১১০টির দর কমেছে এবং ২৪টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। পাশাপাশি সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৩৫.৭৭ পয়েন্ট কমে ১৪ হাজার ৮৪০.৬৭ পয়েন্টে নেমে আসে।