টানা কয়েক দিনের রেকর্ড উত্থানের পর দেশের শেয়ারবাজারে স্বাভাবিক মূল্য সংশোধন দেখা গেছে। দীর্ঘ ১০ কার্যদিবস ধরে চলা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় বাজারে লেনদেন দেড় হাজার কোটি টাকার ঘর অতিক্রম করেছিল এবং প্রধান সূচকও ৫ হাজার ৫০০ পয়েন্টের মাইলফলক পেরিয়েছিল। তবে সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবার (৮ জুন) লেনদেন ও সূচকে কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যায়।
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, টানা উত্থানের পর এ ধরনের কারেকশন বাজারের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ। অতিরিক্ত মুনাফা গ্রহণের চাপ এবং ধারাবাহিক দরবৃদ্ধির পর বিনিয়োগকারীদের কিছুটা সতর্ক অবস্থান নেওয়ার কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে তারা মনে করছেন, বাজারের মৌলিক ধারা এখনও ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে।
তাদের মতে, শেয়ারবাজারে উত্থান-পতন স্বাভাবিক বিষয়। দীর্ঘ সময় ধরে সূচক ও লেনদেনে যে ঊর্ধ্বগতি ছিল, তার পর একটি স্বাভাবিক বিরতি বাজারকে আরও স্থিতিশীল করতে সহায়তা করে। বিশেষ করে নতুন নিয়ন্ত্রক নেতৃত্ব আসার পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা বাজারে ইতিবাচক প্রভাব রাখছে। ভালো মৌলভিত্তির শেয়ারে বিনিয়োগ এখনও তুলনামূলকভাবে নিরাপদ বলে মনে করছেন তারা।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্যমতে, সোমবার ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩৩.১৬ পয়েন্ট কমে অবস্থান করে ৫ হাজার ৪৮২.৯৯ পয়েন্টে। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস কমে ১ হাজার ১০৮.১১ পয়েন্টে দাঁড়ায়, যা আগের দিনের তুলনায় ৭.৪৩ পয়েন্ট কম। ব্লু-চিপ সূচক ডিএসই-৩০ কমে ২ হাজার ৬৯.১৫ পয়েন্টে অবস্থান নেয়, যা ১৮.০৪ পয়েন্ট কম।
লেনদেনের পরিমাণেও পতন দেখা গেছে। দিন শেষে ডিএসইতে মোট ১ হাজার ৭২ কোটি ৪৬ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়, যা আগের কার্যদিবসে ছিল ১ হাজার ৫২৯ কোটি ৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে প্রায় ৪৫৬ কোটি টাকার বেশি।
লেনদেনের দিন ডিএসইতে ৩৯৩টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে ১০২টির দর বেড়েছে, ২৪৭টির দর কমেছে এবং ৪৪টির দর অপরিবর্তিত ছিল।
দেশের আরেক শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) একই প্রবণতা দেখা গেছে। সোমবার সিএসইতে মোট ৪৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়, যা আগের কার্যদিবসে ছিল ৫৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা।
সিএসইতে এদিন ২৩৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন হয়। এর মধ্যে ৭৮টির দর বেড়েছে, ১৩৪টির দর কমেছে এবং ২৬টির দর অপরিবর্তিত ছিল।
সূচকের দিক থেকেও সিএসইতে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৮৪.৭০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৩১৪.৭৭ পয়েন্টে। আগের কার্যদিবসে এই সূচকটি ১২৯.২০ পয়েন্ট বেড়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ উত্থানের পর এমন কারেকশন বাজারের জন্য ইতিবাচক সংকেত হিসেবেই বিবেচিত হয়। এটি বাজারকে অতিরিক্ত উত্তাপ থেকে কিছুটা ভারসাম্যে নিয়ে আসে এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির পথ তৈরি করে।



