১৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে সরকার: শামা ওবায়েদ

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় যারা কাজ করছেন তারা আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, সংলাপ ও সহমর্মিতার আদর্শকে ধারণ করেন। এই আদর্শ অনুসরণ করেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার দেশের মানুষের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে শান্তিকেন্দ্রিক ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করছে।

বুধবার (১০ জুন) ঢাকার সেনাকুঞ্জে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ১৯৮৮ সাল থেকে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ শুরু করে। অল্প সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা তাদের দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা অর্জন করেন। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতিসংঘের বিভিন্ন শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়তে থাকে।

তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অন্যতম শীর্ষ সেনা ও পুলিশ সদস্য প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বিশ্বে সুপরিচিত। দেশের সশস্ত্র বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা যেমন মহান মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, তেমনি বিভিন্ন সময় গণতন্ত্র রক্ষার ক্ষেত্রেও অবদান রেখেছেন। একইসঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায়ও তারা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও আত্মত্যাগ দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাদের অবদান বাংলাদেশের জন্য গৌরব ও মর্যাদার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

তিনি শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাণ হারানো সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন। বিশেষ করে গত ডিসেম্বর মাসে সুদানে দায়িত্ব পালনকালে নিহত ছয়জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতি তাদের আত্মত্যাগ কখনও ভুলবে না।

প্রতিমন্ত্রী জানান, সম্প্রতি জাতিসংঘের মহাসচিব নিহত ওই ছয় শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর ‘ড্যাগ হ্যামারশোল্ড মেডেল’ প্রদান করেছেন, যা জাতিসংঘের অন্যতম সর্বোচ্চ সম্মাননা। তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা সাহসিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করেছেন। তাদের এই বীরত্ব আন্তর্জাতিকভাবে বারবার স্বীকৃতি ও প্রশংসা পেয়েছে।নারীদের অংশগ্রহণের প্রসঙ্গ তুলে শামা ওবায়েদ বলেন, একজন নারী হিসেবে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশি নারীদের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি তাকে গর্বিত করে। এটি দেশের নারীর ক্ষমতায়ন এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের নেতৃত্বের সুস্পষ্ট প্রতিফলন।

তিনি বলেন, সরকার ভবিষ্যতে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নারীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়াতে কাজ করবে এবং জাতিসংঘের ‘নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা’ এজেন্ডা বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ থাকবে।তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। একইসঙ্গে শান্তিরক্ষা মিশনের দায়িত্ব ও লক্ষ্যগুলো বাস্তবসম্মত, স্পষ্ট এবং কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম নিশ্চিত করতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শান্তিরক্ষা মিশনের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তাকে অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইন ও নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক উপায়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং অন্যান্য উদীয়মান প্রযুক্তিকে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক আর্থিক সংকট বা তারল্য সমস্যার কারণে যেন শান্তিরক্ষা মিশনের কার্যকারিতা ও সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়েও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সচেতন থাকতে হবে। শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সব দেশকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।