রাজধানীর বনানী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার ১৪ জনের মধ্যে ১৩ জনকে তিন দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। অপর আসামি মো. তাইবুর সাইফ অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাকে রিমান্ডে না দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ জুন) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বনানী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতে হাজির করেন। এ সময় তাদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানা ১৩ আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন।
পুলিশের দাবি, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে মিছিলের প্রস্তুতি নেওয়ার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তে জানা যায়, তারা একটি নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে সংগঠিত কার্যক্রম চালাচ্ছিলেন।
রিমান্ডে পাঠানো ১৩ জন হলেন মোতাহের হোসেন শুভ, মারুফুল ইসলাম, তানভীর আহম্মেদ সানী, ওয়ালিউল্লাহ ফারুক আদর, সামির চৌধুরী লিয়ন, ইমন আলী খান, ইয়াছিন আরাফাত আবির, সিফাত রহমান, ইয়ামিন আরাফাত নিহাদ, নাজমুল সরকার, আবির হোসেন, তৌকির তারেক আয়াজ এবং হাবিবুর রহমান।
আদালতে শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিলের আবেদন করেন। তাদের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত নন এবং তাদের কোনো রাজনৈতিক পদ-পদবীও নেই। ঘটনার দিন তারা একসঙ্গে বসে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের খেলা দেখছিলেন বলেও আদালতে দাবি করা হয়।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৬ মে ভোরে বনানী নেভি হেডকোয়ার্টারের সামনে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন সংক্রান্ত ব্যানার নিয়ে কয়েকজন ব্যক্তি অনুমতি ছাড়া মিছিল করেন। ওই ঘটনায় আশিক তফাদার নামে একজনকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে মামলার তদন্তের সূত্র ধরে গত ১৩ জুন সকালে বনানী নেভি হেডকোয়ার্টারের সামনে একটি মাইক্রোবাস থেকে এই ১৪ জনকে আটক করা হয়। পুলিশ বলছে, তারা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন এবং রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্যে লিফলেট ও পোস্টার বিতরণের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে শেখ হাসিনার ছবি সম্বলিত ২৪টি পিভিসি পোস্টার, একটি মোটরসাইকেল এবং কয়েকটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তার মতে, এ ঘটনার পেছনে কারা অর্থায়ন করেছে, এর সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং পুরো নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। সে কারণেই আদালতের কাছে রিমান্ডের আবেদন করা হয়।



