রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা মামলার বিচার শুরু হয়েছে। সোমবার (১ জুন, ২০২৬) ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। একই সঙ্গে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামীকাল মঙ্গলবার (২ জুন) দিন ধার্য করেছেন আদালত।
আদালতে অভিযোগ গঠনের পর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা চিৎকার করে দাবি করেন, তিনি ধর্ষণ করেননি, কেবল লাশ কেটেছেন। ডলার নামে এক ব্যক্তি তাকে মেয়েটিকে এনে দিলে দুই লাখ টাকা দেওয়ার লোভ দেখিয়েছিল এবং সেই-ই ধর্ষণ করেছে। সোহেল রানা নিজের পাপের শাস্তি প্রার্থনা করার পরপরই পুলিশ সদস্যরা তাকে থামিয়ে প্রিজন ভ্যানে নিয়ে যান।
এর আগে গত ২৫ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এতে সোহেল রানার বিরুদ্ধে রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা এবং তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে ওই অপরাধে সরাসরি সহায়তার অভিযোগ আনা হয়।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ১৯ মে সকালে ভিক্টিম রামিসা ঘর থেকে বের হলে প্রতিবেশী সোহেল রানা কৌশলে তাকে নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে যায়। পরে রামিসাকে স্কুলে নেওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করার একপর্যায়ে তার বাবা আসামির দরজার সামনে মেয়ের জুতা দেখতে পান। ভেতর থেকে সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকলে শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মাথাবিহীন লাশ এবং একটি বালতির ভেতর তার কাটা মাথা উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার সময় ঘরে থাকা সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্নাকে আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে স্বীকার করে, তার স্বামী রামিসাকে বাথরুমে আটকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করেছে। এরপর লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে স্বপ্নার সহায়তায় ধারালো ছুরি দিয়ে মাথা ও হাত কেটে আলাদা করা হয় এবং যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে লাশ খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর জানালার গ্রিল কেটে সোহেল রানা পালিয়ে গেলেও জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশ স্বপ্নাকে আটক করে। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ২১ মে আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দিয়েছিল সোহেল রানা।
নিহত শিশু রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা বনানীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন এবং তারা পল্লবীর সেকশন-১১ এর ওই বাসায় ভাড়া থাকতেন। আসামি সোহেল ও স্বপ্নাও একই বাসার অন্য একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করতো।



