১৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বকাপের প্রথম সমর্থক সংঘর্ষ, আলোচনায় টাইমস স্কয়ার

যুক্তরাষ্ট্রে চলমান ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে যখন উৎসবের আমেজ, তখনই অনাকাঙ্ক্ষিত এক ঘটনায় তৈরি হলো উত্তেজনা। মঙ্গলবার (১৬ জুন) নিউইয়র্কের ঐতিহ্যবাহী টাইমস স্কয়ারে আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়ার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। কানসাস সিটিতে দুই দলের মধ্যকার গ্রুপ পর্বের হাইভোল্টেজ ম্যাচ শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে এই সংঘাতের খবর পাওয়া যায়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ততম এই চত্বরে দুই দেশের সমর্থকেরা একে অপরের সঙ্গে উগ্র তর্ক-বিতর্ক ও ধাক্কাধাক্কিতে লিপ্ত হন। সংঘর্ষের মূল কারণ এখনো স্পষ্ট জানা যায়নি। তবে চলতি বিশ্বকাপে এই প্রথম দুই ভিন্ন দেশের সমর্থকদের মধ্যে এমন প্রকাশ্য দ্বন্দ্বের ঘটনা ঘটায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার দিনের শুরুতে ম্যাচের ভেন্যু কানসাস সিটির চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন ও উৎসবমুখর। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচকে কেন্দ্র করে লিওনেল মেসির হাজার হাজার সমর্থক গান, স্লোগান আর আকাশী-সাদা পতাকায় পুরো শহর মাতিয়ে তোলেন। মিল ক্রিক পার্ক এবং কান্ট্রি ক্লাব প্লাজার চারপাশে জড়ো হওয়া সমর্থকদের উল্লাস দেখে মনে হচ্ছিল যেন পুরো এলাকাটি আর্জেন্টিনারই কোনো শহর।

দূর-দূরান্ত থেকে আসা আর্জেন্টাইন ফুটবলপ্রেমীদের একজন বলেন, ‘এখানে এত বেশি আর্জেন্টিনার সমর্থক এসেছেন যে মনে হচ্ছে আমরা নিজেদের দেশেই আছি।’ আরেক সমর্থক বিশ্বকাপ ট্রফির একটি রেপ্লিকা উঁচিয়ে ধরে জানান, এই বিশ্বকাপে আসার জন্য তিনি দীর্ঘ ছয় মাস ধরে ভ্রমণ করছেন।

তবে কানসাস সিটির এই আনন্দঘন পরিবেশকে কিছুটা মলিন করে দেয় নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারের অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষের খবর। ফুটবলপ্রেমীদের অনেকেই এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন, মাঠের বাইরের এই অপ্রীতিকর ঘটনা বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার (FIFA) ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে।

মাঠের বাইরের এই বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে পেছনে ফেলে অবশ্য ফুটবলপ্রেমীদের নজর এখন মাঠের লড়াইয়ে। মঙ্গলবার রাতে (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৭টা) কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে (অ্যারোহেড স্টেডিয়াম) আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে নিজেদের শিরোপা ধরে রাখার মিশন শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। আয়োজকেরা আশা করছেন, মাঠের বাইরের অপ্রীতিকর ঘটনা বাদ দিয়ে সমর্থকেরা এখন কেবল মাঠের ফুটবলেই মনোনিবেশ করবেন।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়াওয়ান ফুটবল