১৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিষেধাজ্ঞা শেষে মাছ ধরার আশায় উচ্ছ্বসিত উপকূলের জেলেরা

বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার ওপর আরোপিত ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে। দীর্ঘদিন কর্মহীন থাকার পর আবারও গভীর সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন ভোলার হাজারো জেলে। নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে মাছ ধরার সুযোগ পাওয়ায় জেলে, ট্রলার মালিক ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ফিরে এসেছে প্রাণচাঞ্চল্য।

মৎস্য বিভাগ জানায়, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে গত ১৪ এপ্রিল থেকে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় মাছ ধরা বন্ধ ছিল। ৫৮ দিনের সেই নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে আজ মধ্যরাতে।

ভোলার বিভিন্ন ঘাট ঘুরে দেখা গেছে, জেলেরা ইতোমধ্যে জাল, বরফ, জ্বালানি তেল, খাবার ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে ট্রলার প্রস্তুত করছেন। অনেকেই আগেভাগে গভীর সাগরের পথে রওনা হয়েছেন, যাতে নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মাছ ধরা শুরু করতে পারেন।

জেলেরা জানান, নিষেধাজ্ঞার সময়ে তাদের পরিবারকে চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়তে হয়েছে। ঈদুল আজহাও কেটেছে সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে। তাই এবার সাগরে ভালো মাছের দেখা পাওয়ার আশায় বুক বেঁধেছেন তারা।

তাদের প্রত্যাশা, বড় আকারের ইলিশসহ পর্যাপ্ত মাছ ধরা পড়লে কয়েক মাসের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। তবে মাছের পরিমাণ কম হলে আবারও আর্থিক সংকটে পড়তে হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

ভোলা জেলা মৎস্য বিভাগের তথ্যমতে, জেলার সাত উপজেলায় প্রায় ৬৪ হাজার নিবন্ধিত সমুদ্রগামী জেলে রয়েছেন। এছাড়া মাছ ধরার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত রয়েছে আরও লক্ষাধিক মানুষ।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে নিবন্ধিত জেলেদের মধ্যে সরকারি সহায়তা হিসেবে ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নিষেধাজ্ঞার সুফল হিসেবে এবার সাগরে মাছের উৎপাদন বাড়বে এবং জেলেরা ভালো আয় করতে পারবেন।