১৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিএসই’র,জাতীয় বাজেট ২০২৬-২০২৭ পরবর্তী সংবাদ

আজ চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি(সিএসই) তার চট্টগ্রামস্থ প্রধান কার্যালয়ে প্রস্তাবিত ২০২৬-২০২৭ বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে এবং পুঁজিবাজার বিষয়ক প্রত্যাশাগুলো ব্যক্ত করে। এই সম্মেলনটি সভাপতিত্ব করেন সিএসইর চেয়ারম্যান জনাব একেএম হাবিবুর রহমান। উক্ত সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সিএসইর পরিচালক মেজর (অব) এমদাদুল ইসলাম, শাহজাদা মাহমুদ চৌধুরী এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক , এম সাইফুর রহমান মজুমদার, এফসিএ, এফসিএমএ। এ সময় সিএসইর অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

সিএসইর চেয়ারম্যান জনাব একেএম হাবিবুর রহমান বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে পুঁজিবাজারের উন্নয়নের জন্য বিবেচিত বিষয়গুলো পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সকলের বিশেষ করে বিনিয়োগকারিদের জন্য সুফল বয়ে আনবে।

সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এম সাইফুর রহমান মজুমদার, এফসিএ, এফসিএমএ বাজেট নিয়ে মূল বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন,

আপনারা জানেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় অর্থমন্ত্রী জনাব আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, এম.পি. বিগত ১১ জুন, ২০২৬ তারিখে মহান জাতীয় সংসদে গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা এই শিরোনামে আগামী ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের বাজেট ঘোষণা করেছেন। মাননীয় অর্থমন্ত্রী কর্তৃক প্রস্তাবিত নয় লক্ষ আটত্রিশ হাজার কোটি টাকার বাজেট অত্যন্ত সময়োপযোগী, সাহসী এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে যথোপযুক্ত পদক্ষেপ বলে আমরা মনে করছি।  

চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জ প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে দেশের পুঁজিবাজারের আধুনিকায়ন, গভীরতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে গৃহীত বিভিন্ন নীতিগত উদ্যোগকে স্বাগত জানায়। জাতীয় বাজেটে পুঁজিবাজার সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রণোদনা, সংষ্কারমূলক পদক্ষেপ, বাজার অবকাঠামোর আধুনিকায়ন, ডিজিটাল সক্ষমতা বৃদ্ধি, দ্রুততর স্যাটেলমেন্ট ব্যবস্থা, নতুন আর্থিক পণ্য ও ইন্সট্রুমেন্টের তালিকাভুক্তি, বিনিয়োগকারীর সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ সহজ করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পুঁজিবাজার সংক্রান্ত নীতিকৌশল বাজেট কাঠামোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে যার জন্য চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জ-এর পক্ষ থেকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জ দীর্ঘদিন ধরে পুঁজিবাজারে পণ্য বৈচিত্র্যকরণ ও সম্প্রসারণের জন্য বিভিন্ন প্রস্তাব নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে উপস্থাপন করে আসছিল। এটি স্পষ্ট যে, এবারের বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে নীতিনির্ধারকগণ চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জ-এর বাস্তবসম্মত এবং দূরদর্শী প্রস্তাবনাগুলোকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নিয়েছেন। দীর্ঘ সময় ধরে সিএসই যে সংস্কারের বীজ বুনে আসছিল, এই বাজেট যেন তারই একটি প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি। এইজন্য আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং মাননীয় অর্থমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

এই পর্যায়ে ঘোষিত বাজেটে পুঁজিবাজার সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রণোদনা সমূহ এবং এতদসংক্রান্ত সিএসই এর প্রস্তুতিমূলক অবস্থান তুলে ধরছিঃ

 ১। কমোডিটি এক্সচেঞ্জ- সিএসই এর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অগ্রগতিঃ

বাংলাদেশের অর্থনীতি আজ একটি নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে। দেশে বর্তমানে এমন কোনো সংগঠিত, স্বচ্ছ এবং প্রযুক্তিনির্ভর Commodity Market গড়ে ওঠেনি, যেখানে পণ্যের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং ভবিষ্যৎ মূল্য সম্পর্কে কার্যকর বাজারভিত্তিক নির্দেশনা পাওয়া যায়। আমরা অত্যন্ত উৎসাহের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে,,, সরকার বিদ্যমান লাইসেন্স সক্রিয়করণ, প্রয়োজনীয় বিধিমালা প্রণয়ন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে Commodity Exchange কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছে।

বিশেষভাবে উল্লেখ করতে চাই যে, চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জ ইতোমধ্যে Commodity Exchange চালুর জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত অবকাঠামো, ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম সহ চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই বাজার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে আসছি। জাতীয় বাজেটে এ খাতকে গুরুত্ব দেওয়া অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং উৎসাহব্যঞ্জক।

 ২। প্রোডাক্ট ডাইভারসিফিকেশন বা পণ্যের বৈচিত্র্যায়নঃ

আমরা আনন্দের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, বাজেটে Commodity Exchange- এর পাশাপাশি REITs, ETFs, Index Hedging এবং Currency Hedging Instruments- এর সম্ভাবনাও পর্যালোচনার কথা বলা হয়েছে। এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, সরকার বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে কেবল শেয়ার লেনদেনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না; বরং একটি পূর্ণাঙ্গ, বহুমাত্রিক এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন Financial Market Ecosystem হিসেবে গড়ে তুলতে চায়।

সিএসই এর আধুনিক ট্রেডিং ইঞ্জিন (Next Generation Trading System) যেকোনো ধরণের ফিক্সড ইনকাম সিকিউরিটিজ, গ্রিন বন্ড, সুকুক, ইনডেক্স ডেরিভেটিভস এবং ইকুইটি ডেরিভেটিভস লেনদেনের জন্য সম্পূর্ণ উপযোগী এবং প্রস্তুত।

 ৩। ডিজিটালাইজেশন ও প্রযুক্তিগত সংস্কারঃ

আইপিও প্রক্রিয়াকে সময়নির্ধারিত ও প্রযুক্তিনির্ভর করার উদ্যোগ বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে আন্তর্জাতিক মানের দিকে এগিয়ে নেবে। আবেদন, যাচাই, ফি পরিশোধ, অনুমোদন এবং তথ্য আদান-প্রদানের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সম্পন্ন হলে স্বচ্ছতা, দক্ষতা এবং জবাবদিহিতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।

আমরা বিশেষভাবে স্বাগত জানাই একটি সমন্বিত ডিজিটাল ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার উদ্যোগকে, যেখানে ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান, ইস্যু ম্যানেজার, স্টক এক্সচেঞ্জ, সিডিবিএল এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো একটি একীভূত প্ল্যাটফর্মে কাজ করবে। এটি বাংলাদেশের ক্যাপিটাল মার্কেট অবকাঠামোর মধ্যে একটি বড় ধরনের রূপান্তর ঘটাবে।

প্রযুক্তির দিক থেকে সিএসই সবসময়ই দেশের পুঁজিবাজারে প্রথম সারির উদ্ভাবক। এই প্রসঙ্গে আমরা আমাদের ফাউন্ডার প্রেসিডেন্ট জনাব আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর অবদান কৃতজ্ঞতা সহকারে স্মরণ করছি। বর্তমানে সিএসই অত্যন্ত শক্তিশালী এবং সুরক্ষিত Automated Surveillance System এবং ক্লাউড – রেডি আইটি অবকাঠামো ব্যবহার করছে। সরকারের ডিজিটাল সংস্কার এজেন্ডার সাথে তাল মিলিয়ে রিয়েল-টাইম ডেটা শেয়ারিং এর মতো আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণে সিএসই এর কারিগরি দল সম্পূর্ণ সক্ষম।

৪। লেনদেন নিষ্পত্তির আধুনিকায়ন এবং দক্ষতা বৃদ্ধিকরণঃ

আমরা বিশেষভাবে লক্ষ্য করেছি যে সরকার শেয়ার লেনদেন নিষ্পত্তি ব্যবস্থা বর্তমান T+2 থেকে ধাপে ধাপে T+0 পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এটি বাস্তবায়িত হলে বাজারের তারল্য বৃদ্ধি পাবে, মূলধনের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং বাংলাদেশের বাজার আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের আরও কাছাকাছি পৌঁছাবে।

লেনদেন নিষ্পত্তি ব্যবস্থাপনায় আধুনিকায়ন এবং স্যাটেলমেন্ট সাইকেল ন্যূনতম পর্যায়ে নামিয়ে আনার জন্য সিএসই কাজ করে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষিতে আমরা উল্লেখ করতে চাই যে, বিশ্বের অন্যান্য পুঁজিবাজারের ন্যায় আমরা ট্রেড ফর ট্রেড স্যাটেলমেন্ট এর বিকল্প হিসেবে ইনট্রা ডে স্যাটেলমেন্ট প্রক্রিয়া চালু করতে প্রস্তুত।

 ৫। মূলধন সংগ্রহ ও তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া সহজীকরণঃ

দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের অর্থনীতি মূলত ব্যাংকনির্ভর অর্থায়নের ওপর নির্ভরশীল। একটি টেকসই ও ভারসাম্যপূর্ণ বিনিয়োগ ব্যবস্থার জন্য শক্তিশালী পুঁজিবাজার অপরিহার্য। এবারের বাজেটে সেই বাস্তবতাকেই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির পরিকল্পনা বাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে। পেনশন ফান্ড, বীমা কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড এবং অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির অধিকতর অংশগ্রহণ বাজারে দীর্ঘমেয়াদি মূলধন প্রবাহ নিশ্চিত করবে এবং বাজারকে স্বল্পমেয়াদি অস্থিরতা থেকে সুরক্ষা দেবে।

আমরা বিশেষভাবে উৎসাহিত যে সরকার বন্ড মার্কেট উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়েছে। কর্পোরেট বন্ড, সুকুক, ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ড এবং পৌর বন্ডের বিকাশ দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। এটি অর্থনৈতিক উন্নয়নের দ্বার উন্মোচন করবে বলে আমরা আশা করছি। বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, নগরায়ণ এবং শিল্পায়নের জন্য একটি শক্তিশালী বন্ড মার্কেট অপরিহার্য।

 চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জ বিশ্বাস করে, বাজেটে ঘোষিত এসব সংষ্কার কার্যকর ও সময়োপযোগী বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার একটি আধুনিক, স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক বাজারে পরিণত হবে। সিএসই এই লক্ষ্যে সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

 সিএসই-এর প্রস্তাবনা

বর্তমান ব্যাংক নির্ভর অর্থায়ন কাঠামোর পরিবর্তে মাননীয় অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যে দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেছেন যে পুঁজিবাজারকে শুধু শেয়ার কেনাবেচার ক্ষেত্র নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী মূলধন সংগ্রহ, অবকাঠামো অর্থায়ন, সঞ্চয়কে উৎপাদনশীল বিনিয়োগে রূপান্তর এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মে পরিণত করবে। একটি যুগোপযোগী পুঁজিবাজার গঠনের জন্য নিম্নোক্ত প্রস্তাবগুলো পুনর্বিবেচনা করার জন্য আমরা প্রস্তাব আকারে উপস্থাপন করছিঃ

১. বাংলাদেশের প্রথম কমোডিটি এক্সচেঞ্জ স্থাপনের জন্য সিএসই টেকনোলজিক্যাল এবং রেগুলেটরি কাঠামো ইতিমধ্যে সমাপ্ত করেছে, যা উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। একটি আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর বিশ্বমানের এক্সচেঞ্জ স্থাপনের জন্য প্রচুর বিনিয়োগের প্রয়োজন যা চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ তার সীমিত   আয়ের মাধ্যমে সংস্থান করছে । উপরোক্ত বিবেচনায় চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের কমোডিটি সেগমেন্টকে আগামী ৫ বছরের জন্য কর অবকাশ প্রদান করা হলে একটি যুগপোযোগী মার্কেট গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

২. আসন্ন ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেটে তালিকাভুক্ত এবং অতালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যকার কর হারের ব্যবধান ৭.৫% রাখা হয়েছে। তালিকাভুক্ত কোম্পানির সাথে অতালিকাভুক্ত কোম্পানির কর হারের ব্যবধান ১০% করার জন্য অনুরোধ করছি। যা ভাল কোম্পানি সমূহ পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে উৎসাহিত করবে এবং স্বচ্ছ কর্পোরেট রিপোর্টিং এর মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ও বৃদ্ধি পাবে।

৩. নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানি সমূহের আয় তিন বছর করমুক্ত রাখা হলে অতালিকাভুক্ত কোম্পানিসমূহ তালিকাভুক্ত হতে উৎসাহিত হবে । এতে পুঁজিবাজারে গুণগত মানসম্পন্ন শেয়ারের যোগান বাড়বে যা বাজারে লেনদেন বৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা আনয়নে ভূমিকা পালন করবে।

৪. বর্তমানে অনাবাসী ব্যক্তিকে কারিগরি বা টেকনিক্যাল সেবার বিপরীতে পরিশোধের উপর ২০% হারে উৎসে কর কর্তনের বিধান আছে। এছাড়া সফটওয়্যার মেইনটেন্যান্স খাতে ১৫% হারে মূসক কর্তনের বিধান আছে, যা মাননীয় অর্থমন্ত্রী প্রস্তাবিত ডিজিটালাইজেশনের পরিপন্থী। এই উৎসে কর যৌক্তিকভাবে ১০% এবং মূসক হার ৫% এ কমিয়ে আনার প্রস্তাব করছি।

৫. মাননীয় অর্থমন্ত্রী দেশের অর্থবাজারের কাঠামোর অতি প্রয়োজনীয় সেগমেন্ট কর্পোরেট বন্ড মার্কেট সম্প্রসারণের কথা বলেছেন এবং পাশাপাশি মিউনিসিপ্যাল বন্ড, সুকুক, ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ড ইত্যাদির মাধ্যমে ব্যাংক ব্যবস্থার বিকল্প অর্থায়নের কৌশল উল্লেখ করেছেন। কিন্তু, বর্তমান মুদ্রাস্ফীতি, মুদ্রানীতি এবং সুদ হারের আলোকে কর্পোরেট বন্ড মার্কেট সহ এই সমস্ত আর্থিক পণ্যের মার্কেট পেনেট্রেশনের কোনো কৌশল আমরা বাজেট কাঠামোয় লক্ষ্য করিনি। উপরন্তু জিরো কুপন বন্ডের উপর বিদ্যমান কর অব্যহতি প্রত্যাহার করা হয়েছে যা প্রস্তাবিত বাজেট কৌশলের পরিপন্থী। আমরা মনে করি জিডিপির অন্তত ২% কর্পোরেট বন্ড মার্কেটের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা উচিত এবং তার জন্য বর্তমান অর্থ কাঠামো বিবেচনায় পেনেট্রেশনের কৌশল নেয়া প্রয়োজন।

৬. প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে ডিভিডেন্ড আয়ের উপর ২০% হারে কর প্রযোজ্য যা প্রস্তাবিত অর্থ বিলে প্রত্যাহার করা হয়েছে। যার ফলে ডিভিডেন্ড আয়ের উপর প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে  প্রযোজ্য হারে কর ধার্য করা হবে যা পুঁজিবাজার বিকাশে অন্তরায় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। আমরা এই প্রস্তাব প্রত্যাহার করে বিদ্যমান ২০% হারে কর আরোপ অব্যাহত রাখার প্রস্তাব করছি।


পরিশেষে, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে বর্তমান সরকারের সংস্কারমুখী নেতৃত্ব, বিনিয়োগবান্ধব নীতি এবং বাজারের আধুনিকায়ন কর্মসূচি বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে একটি নতুন উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করবে। চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জ এই রূপান্তর প্রক্রিয়ায় সরকারের পাশে থেকে কাজ করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।