১৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গবেষণায় আরও বিনিয়োগ করবে সরকার: আমিন উর রশিদ

কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, আগামীতে গবেষণা খাতে আরও বেশি বরাদ্দ দেওয়া হবে। গবেষণা ছাড়া দেশ এগিয়ে যেতে পারে না। গবেষণার ক্ষেত্রে সরকার কোনো কার্পণ্য করবে না। তবে প্রকৃত অর্থে গবেষণা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) বাস্তবায়নাধীন ‘মহিষ গবেষণা ও উন্নয়ন (প্রথম সংশোধিত)’ – শীর্ষক উন্নয়ন প্রকল্পের সমাপনী কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

মহিষ পালনকে জনপ্রিয় করার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, উন্নত দেশগুলোতে মহিষের দুধ একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। আমাদের দেশের চরাঞ্চলে তুলনামূলকভাবে কৃষিকাজ কম হয়। সেখানে লবণাক্ত মাটির উপযোগী লবণ-সহিষ্ণু ঘাসের চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে মহিষ পালন বিকাশের ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি হবে। তবে ভবিষ্যতে কৃষিজমির ওপর চাপ বাড়বে। তাই সীমিত জায়গায় কীভাবে লাভজনকভাবে মহিষ পালন করা যায়, সে বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

এর আগে সকালে বিএলআরআইতে পৌঁছে প্রতিষ্ঠানটির ছাগল গবেষণা খামার পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। এ সময় তিনি বলেন, ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্য ও গৌরবের অংশ। আমরা দেশব্যাপী ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের বিস্তার ও উন্নয়নে কাজ করতে চাই।

তিনি বলেন, শিক্ষিত বেকার তরুণদের কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগল পালন ও খামার স্থাপনে বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে হবে। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি দেশের প্রাণিসম্পদ খাতও আরও সমৃদ্ধ হবে।

বিএলআরআই’র মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান।

এ সময় স্বাগত বক্তব্য দেন এবং প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ও অর্জন তুলে ধরেন প্রকল্প পরিচালক এবং বিএলআরআইয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. গৌতম কুমার দেব। কর্মশালায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধি, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, মহিষ সংক্রান্ত কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও এনজিও প্রতিনিধি, বিএলআরআই’র বিভিন্ন পর্যায়ের বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।