১৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বাধীনতার পর কোটিপতি হিসাব বেড়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার

দেশে অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যেও ব্যাংক খাতে কোটিপতি গ্রাহকের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। চলতি বছরের মার্চ শেষে ব্যাংক খাতে কোটিপতি গ্রাহকের সংখ্যা বেড়েছে ২ হাজার ৪৪১ জন। আর স্বাধীনতার পর অর্থাৎ ১৯৭৩ সাল থেকে চলতি ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত সময়ে দেশের ব্যাংক খাতে কোটিপতি গ্রাহকের সংখ্যা বেড়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৪৮০ জন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) ব্যাংক খাতে মোট হিসাবের সংখ্যা ছিল ১৭ কোটি ৭৯ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৫টি। আর চলতি বছরের মার্চ শেষে ব্যাংক খাতে হিসাবের সংখ্যা দাড়িয়েছে ১৮ কোটি ২৬ লাখ ১২ হাজার ১৫টি। সেই হিসাবে তিন মাসে ব্যাংক খাতে মোট হিসাবের সংখ্যা বেড়েছে ৪৬ লাখ ৬১ হাজার ৫৫০টি।

ব্যাংক খাতে মোট আমানতের পরিমাণ

তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) ব্যাংক খাতের উল্লেখিত হিসাবে মোট আমানতের স্থিতি ছিল ২১ লাখ ৫৩৩ কোটি টাকা। আর চলতি বছরের মার্চ শেষে মোট আমানতের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ২১ লাখ ৫৮ হাজার ২৪ কোটি টাকা।

কোটিপতি গ্রাহকের সংখ্যা

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) ব্যাংক খাতে কোটিপতি গ্রাহকের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৪ জন। আর চলতি বছরের মার্চ শেষে ব্যাংক খাতে কোটি গ্রাহকের সংখ্যা দাড়িয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৪৮৫ জন। সেই হিসাবে তিন মাসে দেশের ব্যাংক খাতে কোটিপতি গ্রাহকের সংখ্যা বেড়েছে ২ হাজার ৪৪১ জন। এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে কোটিপতি গ্রাহকের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২৮ হাজার ৭০ জন।

এদিকে কোটি টাকার অ্যাকাউন্টধারীর সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি এসব অ্যাকাউন্টে জমা টাকার পরিমাণও বেড়েছে। গত বছরের ডিসেম্বর শেষে কোটি টাকার হিসাবে জমানো টাকার স্থিতি ছিল ৮ লাখ ৩৬ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। আর চলতি বছরের মার্চ শেষে এসব হিসাবে জমানো টাকার স্থিতি দাড়িয়েছে ৮ লাখ ৫৯ হাজার ১৬২ কোটি। সেই হিসেবে তিন মাসে কোটি টাকার হিসাবে জমানো টাকা বেড়েছে ২২ হাজার ৭৯২ কোটি টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলেছেন, কোটি টাকার হিসাব মানেই কোটিপতি ব্যক্তির হিসাব নয়। কারণ ব্যাংকে এক কোটি টাকার বেশি অর্থ রাখার তালিকায় ব্যক্তি ছাড়া অনেক প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। আবার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান কতটি ব্যাংক হিসাব খুলতে পারবে, তার কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই। ফলে এক প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির একাধিক অ্যাকাউন্টও রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার কোটি টাকার হিসাবও রয়েছে।

ইতিহাসে কোটিপতি হিসাবের বৃদ্ধি

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে দেশে কোটি টাকার আমানতকারী ছিল ৫ জন, ১৯৭৫ সালে তা ৪৭ জনে উন্নীত হয়। ১৯৮০ সালে কোটি টাকার হিসাবধারীর সংখ্যা ছিল ৯৮টি। এরপর ১৯৯০ সালে ৯৪৩টি, ১৯৯৬ সালে ২ হাজার ৫৯৪টি, ২০০১ সালে ৫ হাজার ১৬২টি, ২০০৬ সালে ৮ হাজার ৮৮৭টি এবং ২০০৮ সালে ছিল ১৯ হাজার ১৬৩টি।

আর ২০২০ সালের ডিসেম্বর শেষে এ সংখ্যা দাঁড়ায় ৯৩ হাজার ৮৯০টি। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে বেড়ে তা দাঁড়ায় ১ লাখ ৯ হাজার ৭৬টিতে। ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কোটি টাকা বা তার বেশি রয়েছে এমন ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৯ হাজার ৯৪৬টি। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে তা দাঁড়ায় ১ লাখ ১৬ হাজার ৯০৮টিতে। আর ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২১ হাজার ৩৬২টি।

চলতি ২০২৫ সালের মার্চ শেষে কোটিপতি হিসাবের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২১ হাজার ৩৬২টি। গত বছরের জুন শেষে কোটিপতি হিসাবের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২৭ হাজার ৩৩৬টি, সেপ্টেম্বর প্রান্তিক শেষে ব্যাংক খাতে কোটি টাকার হিসাবধারীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২৮ হাজার ৭০টি এবং গত বছরের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে কোটিপতি গ্রাহকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৪টি এবং চলতি বছরের মার্চ শেষে কোটিপতি গ্রাহকের সংখ্যা দাড়িয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৪৮৫ জন।