১৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন ৩ জুন

রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন আগামী ৩ জুন জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। মায়েদের বক্তব্যসহ ঘটনার সব দিক পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

শনিবার (৩০ মে) রাজধানীর মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আজকে প্রতিবেদন দিতে পারছি না। তদন্ত কমিটিকে আরও তিন দিন সময় দেওয়া হয়েছে। ৩ জুন পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। কারণ, সন্তানহারা কয়েকজন মায়ের বক্তব্য এখনো নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাদের বক্তব্য অন্তর্ভুক্ত করেই চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হবে।”

তিনি বলেন, তদন্তে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে যে, ঘটনার দিন এক মায়ের অনুরোধে নবজাতকদের কক্ষের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) ব্যবস্থা রাত ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছিল। ওই সময়ে পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশনের কোনো বিকল্প ব্যবস্থাও ছিল না। তবে এই তথ্য মৃত্যুর সরাসরি কারণ কিনা, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “প্রতিবেদনের আলোকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

তিনি জানান, তদন্তকারীরা হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা, অবকাঠামোগত অবস্থা, দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ও নার্সদের কার্যক্রম, নবজাতকদের চিকিৎসা নথি এবং হাসপাতালের পরিবেশগত বিষয়সহ সব দিক খতিয়ে দেখছেন। তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের নাম প্রকাশ করা হবে।

উল্লেখ্য, গত বুধবার সকালে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ডেলিভারির পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা এক থেকে তিন দিন বয়সী ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়।

মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তদন্ত চললেও, পরিবারের সদস্যদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রাতেই ময়নাতদন্ত ছাড়াই ছয় নবজাতকের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় এক নবজাতকের পরিবারের পক্ষ থেকে রাজধানীর রমনা থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলাটি তদন্ত করছেন রমনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আশিক ইকবাল। একইসঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পৃথক তদন্তও অব্যাহত রয়েছে।

নবজাতকদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টরা।