১৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খাদ্য নিরাপত্তায় কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে সরকার: কৃষিমন্ত্রী

খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে সরকার বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

সোমবার (১৫ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ খাতগুলোতে সরকারের উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ রয়েছে। বরাদ্দকৃত অর্থ কতটা কার্যকরভাবে প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখছে-তা নিয়ে গবেষণা ও মূল্যায়নকে সরকার গুরুত্ব দেয়, কারণ তথ্যভিত্তিক সুপারিশ নীতি নির্ধারণে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

তিনি জানান, কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। কৃষিকে আরও উৎপাদনশীল, লাভজনক ও টেকসই খাতে পরিণত করতে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও বিপণন ব্যবস্থা উন্নয়ন, পেঁয়াজ ও আদাসহ বিভিন্ন ফসলের বীজে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং মাটির উর্বরতা বজায় রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, সৌরশক্তিনির্ভর সেচ ব্যবস্থার সম্প্রসারণের মাধ্যমে ডিজেল ও বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়াতে এয়ার-ফ্লো প্রযুক্তি, মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন এবং চুক্তিভিত্তিক উৎপাদন ব্যবস্থা সম্প্রসারণের মতো কর্মসূচি চলমান রয়েছে।

তিনি জানান, আম, কাঁঠালসহ বিভিন্ন ফল ও সবজি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি বাড়াতে সরকার কাজ করছে। আধুনিক প্যাকিং হাউস, ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, কোয়ারেন্টাইন সুবিধা এবং ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে কৃষিপণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো হবে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, কৃষক যেন ন্যায্যমূল্য পান, সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। চাহিদার সঠিক তথ্য না থাকায় অনেক সময় কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হন। আগামী দেড় বছরের মধ্যে পেঁয়াজ আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি তিন বছরের মধ্যে আদা ও রসুন উৎপাদনেও স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।