ঢাকার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড ভবিষ্যতে দেশের অসচ্ছল ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের সক্ষমতার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। এর মাধ্যমে দরিদ্র পরিবারগুলো সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বিভিন্ন সুবিধা সহজে পাবে এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
বুধবার (১৭ জুন) কেরানীগঞ্জের রুহিতপুর উপজেলা পরিষদ মাঠে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো ব্যক্তি নয়, পরিবারকে উন্নয়নের মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সমাজের প্রকৃত দরিদ্র, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোকে একটি সমন্বিত সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় আনা হচ্ছে।
তিনি জানান, কর্মসূচির তৃতীয় পর্যায়ে কেরানীগঞ্জ উপজেলার দুটি ইউনিয়নের মোট ১ হাজার ২৭৫টি পরিবারের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে। এটি শুধু একটি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম নয়, বরং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা, মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের নতুন যাত্রা শুরু করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।
ফরিদা খানম বলেন, বর্তমানে দেশে ২৩টি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৯৫টিরও বেশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। তবে এসব সেবা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে উপকারভোগীরা কাঙ্ক্ষিত সুবিধা পেতে সমস্যার মুখোমুখি হন। ফ্যামিলি কার্ড চালুর মাধ্যমে এসব সেবাকে একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনার ভিত্তি তৈরি হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা আর শুধু অনুদান বা সহায়তা প্রদানের বিষয় নয়; এটি নাগরিকের ন্যায্য অধিকার। ফ্যামিলি কার্ড সেই অধিকার বাস্তবায়নের একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে।
জেলা প্রশাসক আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে এই ফ্যামিলি কার্ড একটি সর্বজনীন সামাজিক পরিচয়পত্র বা ইউনিভার্সাল সোশ্যাল আইডিতে পরিণত হবে। এর মাধ্যমে একজন নাগরিক খাদ্য সহায়তা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা সহায়তাসহ বিভিন্ন সরকারি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সুবিধা সহজে গ্রহণ করতে পারবেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই উপহার অসচ্ছল পরিবারের জীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে তারা খাদ্য নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সুবিধা আরও সহজে লাভ করবেন। তিনি এ সময় উপকারভোগীদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, জেলা প্রশাসন সবসময় মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তাদের পাশে থাকবে।



