জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে চলমান বিতর্কের প্রেক্ষাপটে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন।
সোমবার (১ জুন) সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে কেন্দ্র করে বর্তমান বিতর্ক মূলত দেশের দুই বড় রাজনৈতিক দলের নিরাপত্তাহীনতা বা রাজনৈতিক উদ্বেগের বহিঃপ্রকাশ। তিনি উল্লেখ করেন যে, অতীতের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও দ্বন্দ্বের স্মৃতি এখনো বিভিন্ন দলের অবস্থানকে প্রভাবিত করছে।
ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মাহফুজ আলম বলেন, আগামী দিনে রাজনৈতিক বাস্তবতা যেভাবেই পরিবর্তিত হোক না কেন, সবচেয়ে বড় ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে সেই তরুণ প্রজন্ম, যারা আওয়ামী লীগের কর্তৃত্ববাদী রাজনীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল। তার মতে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক জোট ও সমীকরণ সেই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
তিনি তরুণদের উদ্দেশে বলেন, নিজেদের মধ্যে বিভক্তি ও ক্ষুদ্র স্বার্থের রাজনীতি থেকে বের হয়ে বৃহত্তর জাতীয় লক্ষ্যকে সামনে রাখতে হবে। সংগঠন, প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক প্রভাব তৈরির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সংগ্রামের ভিত্তি গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
প্রবীণ রাজনৈতিক নেতৃত্বের সমালোচনা করে মাহফুজ আলম বলেন, অতীতেও বিভিন্ন সময়ে তরুণ প্রজন্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে। তার মতে, বর্তমান প্রজন্মের ভবিষ্যৎ রক্ষার দায়িত্ব মূলত তাদের নিজেদেরই নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, মতাদর্শগত বিতর্ক ও ভিন্নমত থাকতেই পারে, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও বিদ্বেষের চর্চা পরিহার করা প্রয়োজন। তার ভাষায়, রাজনৈতিক সংগ্রামের কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত “জুলাই” এবং “ফ্যাসিবাদবিরোধী অবস্থান”।
পোস্টের শেষাংশে মাহফুজ আলম বলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যে সাহস নিয়ে আন্দোলন করা হয়েছিল, এখন সেই সাহসের সঙ্গে সাংগঠনিক শক্তি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা যুক্ত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো রূপেই কর্তৃত্ববাদী শাসন ফিরে আসতে না পারে।



