১৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর দায় কর্তৃপক্ষের, আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চরম দায়িত্বে অবহেলা ও অনিয়ম খুঁজে পেয়েছে তদন্ত কমিটি। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে এই দায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি আরও জানান, পরবর্তী প্রক্রিয়া হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, গত ২৭ মে ভোর ৬টা থেকে সকাল ৯টার মধ্যে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয়টি নবজাতক শিশু মারা যায়। ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় সেই তদন্ত প্রতিবেদনটি হাতে পেয়েছে মন্ত্রণালয়।

তদন্ত প্রতিবেদনের বিস্তারিত তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, আদ্-দ্বীন হাসপাতালের বর্তমান ভবনটি একটি হাসপাতাল পরিচালনার জন্য মোটেও উপযোগী না। তদন্ত কমিটি হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ কক্ষ নম্বর-২ পরিদর্শন করে দেখেছে যে, কক্ষটিতে দীর্ঘসময় এসি বন্ধ ছিল। একই সাথে সেখানে স্বাভাবিক আলো-বাতাস চলাচলের কোনো ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা না থাকায় প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের চরম ঘাটতি তৈরি হয় এবং কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি হয়ে যায়।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা ওই কক্ষের দায়িত্বে থাকা সেবিকা, পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং মৃত নবজাতকদের অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে নার্স ও সেবিকাদের দায়িত্বে চরম অবহেলা ও অসহযোগিতার প্রমাণ পেয়েছেন। নবজাতকদের আকস্মিক শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও হাসপাতালে কোনো ইমার্জেন্সি মেডিকেল রেসপন্স ছিল না। আশঙ্কাজনক অবস্থায় অভিভাবকরা বারবার ডাকাডাকি করলেও সংশ্লিষ্ট নার্সরা কোনো চিকিৎসককে বিষয়টি অবহিত না করে উল্টো কালক্ষেপণ করেছেন এবং শিশুর মৃত্যুরোধে যথাযথ চিকিৎসাগত কোনো ব্যবস্থা নেননি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ওই পোস্ট অপারেটিভ কক্ষটি ছিল মাত্র ৯০০ বর্গফুটের। যেখানে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি— অর্থাৎ ১১ জন রোগীসহ নবজাতক ও তাদের স্বজন মিলিয়ে প্রায় ৫০ জন মানুষ উপস্থিত ছিলেন। হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্ত কমিটি নিশ্চিত হয়েছে যে, তারা একটি হাসপাতাল পরিচালনার প্রাথমিক শর্তগুলো পালনেও সক্ষম ছিলেন না। ওই গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ডে রোগীদের দেখাশোনার জন্য কোনো চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেবিকাদের প্রয়োজনীয় কোনো প্রশিক্ষণও ছিল না।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, হাসপাতালটিতে বর্তমানে অনেক রোগী চিকিৎসাধীন থাকায় এটি হুট করে বন্ধ করে দেওয়া সম্ভব নয়। তবে এই মর্মান্তিক ঘটনার সাথে জড়িত দোষীদের আইনি শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। আগামী রোববারের মধ্যে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।