১৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশে হামাসের কার্যক্রমের ওপর নজর রাখছে ইসরায়েল: রিউভেন আজার

ভারতে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত রিউভেন আজার দাবি করেছেন যে, ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের কার্যক্রম বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে চলছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর থেকে এই দুই দেশে তাদের সম্ভাব্য তৎপরতা ইসরায়েল নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির জ্যেষ্ঠ নির্বাহী সম্পাদক আদিত্য রাজ কাউলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।

ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে হামাস-সংশ্লিষ্ট তৎপরতার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও চরমপন্থী প্রভাব ছড়িয়ে পড়ার উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাক্ষাৎকারে তিনি আঞ্চলিক কূটনীতিতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেন এবং চরমপন্থা মোকাবিলায় দেশটির প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মাঝে সেতু হিসেবে কাজ করার জন্য পাকিস্তানের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা প্রসঙ্গে রিউভেন আজার বলেন, ইসরায়েল পাকিস্তানকে বিশ্বাস করে না এবং তাদের অবস্থানকে সতর্কতার সঙ্গে দেখে। তিনি মন্তব্য করেন, এমন কিছু দেশ আছে যারা মনে করে, শান্তি মানে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করা যেখানে ইসরায়েলের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। শান্তির বিষয়ে ইসরায়েলের ধারণা অঞ্চলের কিছু পক্ষের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা উল্লেখ করে তিনি পাকিস্তানের পাশাপাশি কাতারের ভূমিকারও সমালোচনা করেন।

এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজার স্বীকার করেছেন যে কিছু প্রতিবেদন প্রকাশ্যে থাকা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। তবে এর বাইরেও জনসাধারণের নজরের আড়ালে কিছু কার্যক্রম থাকতে পারে বলে তিনি মনে করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, চরমপন্থী সংগঠনগুলো ৭ অক্টোবরের হামলাকে অন্য জায়গায় কার্যক্রম চালানোর একটি মডেল হিসেবে দেখতে পারে, যা সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের সরকারগুলোর জন্য উদ্বেগের কারণ হওয়া উচিত। ইসরায়েল ইতিমধ্যেই তাদের এই উদ্বেগের কথা ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে।

আজহার আরও অভিযোগ করেন, পাকিস্তানের শাসনব্যবস্থার কিছু অংশ ইহুদি-বিদ্বেষী মনোভাবকে উসকে দিচ্ছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রতি ইসলামাবাদের দৃষ্টিভঙ্গির ওপর আস্থা রাখার সুযোগ কমিয়ে দেয়। ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার বিষয়ে তিনি বলেন, তেহরানের সঙ্গে যেকোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি যেন নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং আঞ্চলিক হুমকিগুলোর সমাধান করে, সেদিকেই ইসরায়েলের মূল মনোযোগ রয়েছে।