রাজধানীর আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক উল্লেখ করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, এ ঘটনায় ইতিমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর হাসপাতালটির বিরুদ্ধে সব ধরনের কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পবিত্র ঈদুল আজহার দিন বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল ৮টায় নরসিংদীর মনোহরদী সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ঈদের নামাজ আদায় শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “আজকের এই খুশির দিনে একটি বেদনার খবর হলো গতকাল আদ-দ্বীন হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে শিশু মৃত্যুর ঘটনা। একজন মায়ের অনুরোধে শিশু ওয়ার্ডটির এসি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। পরে সম্ভবত গ্যাস লিকেজের কারণে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে। আমি অন্য একটি হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় এই খবরটি পাওয়ার সাথে সাথেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিই।” ঈদের দিনেও রোগীদের স্বার্থে দেশের সকল হাসপাতালে সব ধরনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে তিনি জানান।
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ও আক্রান্তের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, “আমরা যদি সময়মতো হাম মোকাবিলা করতে না পারতাম, তবে হাজারো শিশু মারা যেতে পারত। আমাদের হাতে বর্তমানে পর্যাপ্ত টিকা রয়েছে এবং দেশের প্রতিটি শিশুকে টিকার আওতায় নিয়ে আসা হবে।” ইতিমধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব ও মৃত্যু অনেক কমে এসেছে উল্লেখ করে তিনি আক্রান্ত রোগীদের সংস্পর্শ থেকে সুস্থ বাচ্চাদের দূরে রাখার পরামর্শ দেন, যাতে ঈদের পর আক্রান্তের সংখ্যা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।
মনোহরদীতে ঈদের নামাজে মন্ত্রীর সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম.এ মুহাইমিন আল জিহান, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুর রহমান সরকার দোলন, মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশা প্রমুখ।
এদিকে নরসিংদী জেলার অন্যান্য স্থানেও উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। চিনিশপুর ঈদগাহ মাঠে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও নরসিংদী-১ আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন, পলাশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, শিবপুরে নরসিংদী-৩ এর সংসদ সদস্য মনজুর এলাহী এবং রায়পুরাতে নরসিংদী-৫ এর সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন বকুল ঈদের নামাজ আদায় করেন। জেলার সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় গাবতলী ঈদগাহ ময়দানে এবং প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে নরসিংদী জেলা কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে। নামাজ শেষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষ একে অপরের সাথে কুশল ও ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।



