ঈদ উপলক্ষ্যে লাখ লাখ মানুষ ঢাকাসহ বড় বড় শহরগুলো ছেড়ে গ্রামে যাচ্ছে। পরিবারের সঙ্গে যাচ্ছে ছোট্ট শিশুরাও। এটি হাম পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, ঈদ উপলক্ষ্যে এই সাময়িক ‘জন স্থানান্তর’ হাম আক্রান্তের সংখ্যা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি করতে পারে। সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা না থাকায় হতাশা প্রকাশ করেছেন তারা।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি শেষ হলেও এখনো হামে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা কমছে না। বরং দিন দিন বেড়ে চলেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফের তথ্যমতে, টিকা নেওয়ার পর শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হতে দুই থেকে তিন সপ্তাহ সময় লাগে। কিন্তু বাংলাদেশে এবার টিকাদানের দেড় মাস পার হলেও এখনো আগের মতোই আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে, যা বেশ উদ্বেগজনক।
কোনো শিশুর হাম দেখা দেওয়ার চার দিন আগ থেকেই সে অন্যকে সংক্রমিত করতে পারে। তাই যাতায়াতের সময় বড় ধরনের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কোনো অসুস্থ শিশুকে নিয়ে গ্রামে গেলে সেখানে পর্যাপ্ত চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে পারে। এতে মৃত্যুঝুঁকিও বেড়ে যাবে।
ডা. বেনজির আহমেদ, সংক্রামক রোগ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঠিক এ পরিস্থিতিতে কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে শিশুদের আইসোলেশন ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়তে পারে। কারণ, শিশুর শরীরে র্যাশ ওঠার চার দিন আগ থেকেই অন্যদের মধ্যে হাম ছড়াতে পারে। একজন আক্রান্ত শিশু সর্বোচ্চ ১৮ জনকে সংক্রমিত করতে পারে।



